বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। তারা পছন্দমতো সরকার গঠনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাই ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা হবে—এটাই স্বাভাবিক।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ এবং মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণে তালগাছের চারা রোপণ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের জনগণ এখন একটি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার চায়। জনগণের প্রতিনিধি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হোক—এটাই সবার প্রত্যাশা। কেউ কেউ এখন PR (Proportional Representation) পদ্ধতির কথা বলে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে, কিন্তু জনগণ এসব চালাকি আর মেনে নেবে না। যারা এই প্রস্তাব দিচ্ছেন, তারা মুখে এক কথা বললেও বাস্তবে ঠিক উল্টো আচরণ করছেন। একদিকে তারা PR পদ্ধতির কথা বলেন, অন্যদিকে আগে থেকেই প্রার্থী নির্ধারণ করে জনগণের দ্বারে দ্বারে ভোট চাইছেন—এটা দ্বিচারিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
টুকু আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন—জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারলে ২৫ থেকে ৩০ কোটি বৃক্ষ রোপণ করা হবে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমি ইতোমধ্যে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৮০ হাজার গাছের চারা উপহার দিয়েছি। এখন তালগাছ রোপণের কাজ করছি।
তিনি জানান, তালগাছ বজ্রপাত প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। একসময় টাঙ্গাইলে প্রচুর তালগাছ ছিল, কিন্তু এখন তা কমে গেছে। দেশে বর্তমানে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থী, মসজিদগামী মুসল্লি ও ইমামদের জীবন রক্ষায় স্কুল-কলেজ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তালগাছ রোপণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে টাঙ্গাইল সদরের প্রতিটি এলাকায় তালগাছ লাগানো হবে যাতে বজ্রপাতের ক্ষতি থেকে মানুষকে রক্ষা করা যায়।
বিএনপি একটি বৃহৎ ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দলে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রত্যেকেই যোগ্য এবং মনোনয়ন চাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, দলের সবাই সেটিকে মেনে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে—এটাই প্রত্যাশিত।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক সানু, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক দেওয়ান শফিকুল ইসলাম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান লাবলু মিয়া লাভসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।



