যুক্তরাষ্ট্রের ধাঁচে চালানো অভিযানের মতোই ফিল্মি কায়দায় একটি মুসলিম দেশ থেকে এক নেতাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। লেবানন জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে সীমান্ত পেরিয়ে চালানো এক অভিযানে একজন শীর্ষ নেতাকে অপহরণ করা হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
লেবাননের সংগঠন আল-জামাআ আল ইসলামিয়া দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে সীমান্ত অতিক্রম করে চালানো অভিযানে ইসরায়েল তাদের নেতা আতউই আতউইকে অপহরণ করেছে। সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, হাসবাইয়্যা জেলার নিজ বাড়ি থেকে তাকে ধরে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে তারা ইসরায়েলি বাহিনীর স্পষ্ট ‘অনুপ্রবেশ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে।
আল-জামাআ আল ইসলামিয়া আরও দাবি করে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের সময় তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একাধিক হামলা চালিয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে নিয়মিত সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলের লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সরে যাওয়ার কথা থাকলেও এখনো পাঁচটি কৌশলগত এলাকা তাদের দখলে রয়েছে।
যুদ্ধবিরতির শর্তে হিজবুল্লাহকে ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার উত্তরে লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে যোদ্ধা প্রত্যাহার এবং সামরিক অবকাঠামো অপসারণের কথা বলা হয়েছিল।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সংগৃহীত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা একটি লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান চালিয়ে একজন জ্যেষ্ঠ ‘সন্ত্রাসীকে’ আটক করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইসরায়েলের ভূখণ্ডে নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।
ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, আল-জামাআ আল ইসলামিয়া উত্তর ইসরায়েলে দেশটির বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানায়, সোমবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ইসরায়েলি সেনারা এলাকায় প্রবেশ করে আতউই আতউইকে অপহরণ করে। তিনি দক্ষিণ লেবাননের হিব্বারিয়াহ গ্রামের সাবেক মেয়র ছিলেন।
এর আগেও লেবানন অভিযোগ করেছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসরায়েল একাধিক লেবানিজ নাগরিককে অপহরণ করেছে। গত মাসে হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হুসেইন হাজ্জ হাসান দাবি করেন, বর্তমানে ইসরায়েলের হাতে অন্তত ২০ জন লেবানিজ আটক রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ জনকে যুদ্ধবিরতির পর লেবাননের ভেতর থেকেই অপহরণ করা হয়েছে।



