tanaka

জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে তানজিম ইবনে ওয়াহাবের নিয়োগ নবায়ন

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে তানজিম ইবনে ওয়াহাবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ আরও এক বছরের জন্য নবায়ন করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকট্রাম্পের হামলা হুমকির প্রেক্ষাপটে ৩৭ বছরের রীতি ভাঙলেন খামেনি

ট্রাম্পের হামলা হুমকির প্রেক্ষাপটে ৩৭ বছরের রীতি ভাঙলেন খামেনি

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়তে থাকায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি প্রথমবারের মতো তার ৩৭ বছরের পুরোনো একটি রীতি ভেঙেছেন। চলতি বছর ৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিমানবাহিনীর কমান্ডারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বার্ষিক বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন না।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮৯ সালে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে খামেনি প্রতিবছরই এই বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। এমনকি কোভিড-১৯ মহামারির সময়ও তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তবে চলতি বছর সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারির স্মরণে প্রতিবছর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন ইরানের বিমানবাহিনীর একদল কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির শাসন উৎখাতে ইসলামী বিপ্লবের নেতা রুহুল্লাহ খোমেনির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন। খোমেনিই ছিলেন ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং খামেনির পূর্বসূরি।

গত চার দশকে দিনটি একটি প্রতীকী রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর এদিন বিমানবাহিনীর সদস্যরা ধর্মীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে থাকেন। তবে এ বছর খামেনির পরিবর্তে রোববার বিমানবাহিনীর কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদোলরহিম মুসাভি।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যেই খামেনির এই অনুপস্থিতি সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগর ও আশপাশের অঞ্চলে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে, ফলে ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কাও জোরালো হচ্ছে।

এর আগে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা শুরু করলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ প্রসঙ্গে ইরানি নেতৃত্ব ২০২৫ সালের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কথাও উল্লেখ করেছে।

যুদ্ধবিরতির পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। ওয়াশিংটন আলোচনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলেও তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই আলোচনা করবে। এই মতপার্থক্যের কারণে পারস্পরিক বিমান হামলার হুমকিও শোনা যাচ্ছে।

এমন উত্তেজনার মধ্যে জানুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন আরব সাগরে মোতায়েন করে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে অন্তত ১২টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং একাধিক এ-১০সি থান্ডারবোল্ট আক্রমণ বিমান পৌঁছেছে।

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে আরও জানা গেছে, গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাক সুয়েজ খাল অতিক্রম করে লোহিত সাগরে প্রবেশ করেছে। পাশাপাশি পারস্য উপসাগর এলাকায় মার্কিন নৌবাহিনীর এমকিউ-৪সি ট্রাইটন নজরদারি ড্রোন, ই-১১এ যোগাযোগ বিমান, পি-৮ পসেইডন এবং ই-৩জি সেন্ট্রি নজরদারি বিমান সক্রিয় রয়েছে।