আজ সোমবার ফ্রান্স ও সৌদি আরব ফিলিস্তিনে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের পক্ষে সমর্থন সংগ্রহের লক্ষ্যে একটি বহুজাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এই সম্মেলনে কয়েক ডজন দেশের নেতারা যোগ দেবেন, এবং তাদের মধ্যে বেশ কিছু দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে পারে। তবে এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা জানিয়েছে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র।
রয়টার্স এবং দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত রবিবার যুক্তরাজ্য, কানাডা, পর্তুগাল এবং অস্ট্রেলিয়া ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আরও ৬টি দেশ আজ একই পদক্ষেপ নেবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে, যেগুলি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিশ্বনেতাদের ভাষণের আগে এ ঘোষণা দিতে পারে।
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া ১৪৭টি জাতিসংঘ সদস্য দেশের তালিকায় আজ যুক্ত হচ্ছে ৬টি দেশ—বেলজিয়াম, ফ্রান্স, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা এবং সম্ভবত নিউজিল্যান্ড ও লিখটেনস্টাইন। এই দেশগুলো আজ জাতিসংঘের একটি বিশেষ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ঘোষণা দেবে।
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের মধ্যে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের প্রচেষ্টা পুনরুজ্জীবিত করার উদ্দেশ্যে এই সম্মেলন আয়োজিত হচ্ছে। কিছু দেশ, বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, তাদের ঘোষণাটি আগেভাগেই দিয়েছে, যা ইহুদিদের নতুন বছরের প্রতি সম্মান দেখানোর অংশ হিসেবে করা হয়েছে।
এই সম্মেলনে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করছে ফ্রান্স ও সৌদি আরব। তবে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান এতে যোগ দেবেন না, কিন্তু ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এই সম্মেলন বর্জন করেছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন। তিনি এই সম্মেলনকে ‘সার্কাস’ বলে অভিহিত করে বলেন, “আমরা মনে করি না এটি কোনোভাবে সহায়ক। বরং এটি সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করছে।”
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এই বিষয়ে জাতিসংঘ থেকে দেশে ফিরে প্রতিক্রিয়া জানাবেন বলে জানিয়েছেন। ইতিমধ্যেই, ইসরায়েল সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী পশ্চিম তীরের একটি অংশ দখল করার দাবি তুলেছেন।
সৌদি আরব সতর্ক করেছে, পশ্চিম তীর দখল করলে এর ‘গুরুতর প্রভাব’ পড়বে। ইসরায়েলের সাথে সম্পর্কিত সংযুক্ত আরব আমিরাতও সতর্ক করে বলেছে, দখলকরণ হলে তা একটি ‘বিপৎসীমা’ সৃষ্টি করবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র এই পদক্ষেপগুলোকে ‘লোক দেখানো’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমাদের মনোযোগ সিরিয়াস কূটনীতির ওপর, কেবল আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের ওপর নয়। আমাদের অগ্রাধিকার স্পষ্ট—জিম্মিদের মুক্তি, ইসরায়েলের নিরাপত্তা এবং গোটা অঞ্চলের শান্তি ও সমৃদ্ধি, যা কেবল হামাসমুক্ত পরিস্থিতিতেই সম্ভব।”
মার্কিন প্রশাসন আরও সতর্ক করেছে যে, যারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে ফ্রান্সও রয়েছে, যার প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ নিউইয়র্কে আয়োজিত সম্মেলনের আয়োজক। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেল আবিব প্যারিসের বিরুদ্ধে কিছু পাল্টা ব্যবস্থা বিবেচনা করছে।



