ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির পর তার স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ডাকাত দলের সদস্যরা ওই নারীর ১৪ বছর বয়সী ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। পরে তার সামনেই তার মাকে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান সেখ। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চর কালীবাড়ি এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাজিব নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে চর কালীবাড়ি এলাকার তাহের উদ্দিনের ছেলে শরীফ (২৩), আরিফ (২১), মমিনের ছেলে ফাহিম (২২), মোফাজ্জলের ছেলে রাজিব (২৩) ও নূরুলের ছেলে এনামুল (২২) ওই প্রবাসীর অর্ধনির্মিত বাড়িতে প্রবেশ করে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অভিযুক্ত পাঁচজন এলাকায় বখাটে ও মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সূত্র জানায়, বাড়িতে প্রবেশের পর তারা প্রবাসীর ছেলের কাছে পানি চায়। ১৪ বছর বয়সী ওই ছেলে জগ ও গ্লাসে পানি নিয়ে দরজার কাছে এলে তাকে ধরে ঘরের পাশের একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলা হয়। পরে অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে তারা ঘরে প্রবেশ করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর প্রবাসীর স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, বাড়ি নির্মাণের জন্য রাখা প্রায় ৫ লাখ টাকা এবং প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের দুই ভরি স্বর্ণালংকারসহ গৃহবধূর গলার হার, কানের দুল ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায় তারা।
লুটপাটের একপর্যায়ে দরজার সামনে বেঁধে রাখা ওই কিশোরের গলায় চাপাতি ধরে তাকে জিম্মি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এরপর তার মাকে সেখানে নিয়ে গিয়ে ছেলের সামনেই অস্ত্রের মুখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এ সময় রাজিব নামে অভিযুক্ত দলের এক সদস্য মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে ভুক্তভোগী নারী ও তার ছেলেকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে আরও দুই লাখ টাকা না দিলে এবং ঘটনাটি কাউকে জানালে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
ডাকাত দল চলে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে গফরগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালায়।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে চর কালীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি নির্জন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিযুক্ত চারজন পালিয়ে গেলেও রাজিবকে আটক করা সম্ভব হয়।
পুলিশের দাবি, ঘটনার ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি রাজিব পানিতে ফেলে দিয়েছিলেন। পরে অভিযান চালিয়ে পানির ভেতর থেকে ফোনটি উদ্ধার করা হয়।
গফরগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান সেখ বলেন, এ ঘটনায় রাজিব নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।



