পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাটে মসজিদের কাছে ভয়াবহ বোমা হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫৬ জনের বেশি। নিহতদের মধ্যে পাঁচ পুলিশ সদস্য ও ১০ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের সময় পুলিশ সদর দপ্তরসংলগ্ন একটি মসজিদে এ হামলা হয়। খবর আলজাজিরার।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি পুলিশ সদর দপ্তরের পুরোনো পুলিশ লাইনসের ফটকে ধাক্কা দেওয়ার পর বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের পরপরই পুলিশ ও হামলাকারীদের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়।
খাইবার পাখতুনখাওয়ার পুলিশপ্রধান জুলফিকার হামিদ জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর হামলাকারীরা পুলিশ কমপ্লেক্সে ঢোকার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের বন্দুকযুদ্ধ হয়। পরে স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের কাছেও আরেকটি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটে।
পুলিশপ্রধানের তথ্য অনুযায়ী, বন্দুকযুদ্ধে এখন পর্যন্ত তিন হামলাকারী নিহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।
কোহাটের জেলা সদর হাসপাতালে হামলার পর ১৫টি মরদেহ ও ৫০ জনের বেশি আহত ব্যক্তিকে নেওয়া হয়। পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ এবং আহতের সংখ্যা ৫৬ জনের বেশি বলে জানানো হয়েছে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিস্ফোরণে মসজিদটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুলিশ কমপ্লেক্সের বাইরের একটি দেয়ালও ধসে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ আশপাশের বেশ দূরের এলাকাতেও শোনা যায়।
হামলার পর কোহাট-হাঙ্গু সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে।
এদিকে হামলায় আহতদের চিকিৎসায় কোহাটের জেলা সদর হাসপাতালে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আহতদের চিকিৎসা দিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার ধরন, বিস্ফোরণের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। হামলার দায় কোনো সংগঠন স্বীকার না করলেও খাইবার পাখতুনখাওয়ার এ অঞ্চলে ইসলামিক স্টেটের আঞ্চলিক শাখা এবং পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি) সক্রিয় রয়েছে। তারা অতীতেও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে বর্তমান হামলার জন্য কোনো গোষ্ঠীকে দায়ী করে নিশ্চিত কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
পাকিস্তানে আফগান সীমান্তবর্তী উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সশস্ত্র সহিংসতা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে কোহাটের হামলার পর স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা



