tanaka

বদলে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের নাম

ভারতের নির্বাচন কমিশন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের বিবদমান দুই উপদলের জন্য নতুন নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নির্ধারণ করেছে। দলীয় নিয়ন্ত্রণ ও প্রতীক নিয়ে বিরোধের...
প্রচ্ছদসারাদেশচিত্রাপাড়ের গোলফলে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি

চিত্রাপাড়ের গোলফলে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চিত্রা নদীর দুই পাড়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা মিনি সুন্দরবনে গোলফল ঘিরে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা। নদীর দুই পাড়ে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে জন্ম নেওয়া গোলগাছ স্থানীয়দের জন্য বাড়তি আয়ের উৎস হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দিন দিন বাড়ছে গোলফলের চাহিদা। একসময় গ্রামাঞ্চলের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে শহরাঞ্চলেও এ ফলের কদর বাড়ছে। শুধু ফল নয়, গোলগাছের কাঁদি থেকে রস সংগ্রহ করে উন্নতমানের গুড় তৈরিরও সুযোগ রয়েছে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা এসব গোলগাছকে ঘিরে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুন্দরবনের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় শত কিলোমিটার দূরে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সীমান্তঘেঁষে বয়ে গেছে চিত্রা নদী। নদীর দুই পাড়ে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চর ও আশপাশের গ্রামজুড়ে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নিয়েছে সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা। যতদূর চোখ যায়, সবুজে ঘেরা এ অঞ্চল যেন ছোট্ট এক সুন্দরবন।

এখানে সুন্দরী, কেওড়া, গরান ও গোলপাতাসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। তবে এসবের মধ্যে গোলগাছের সংখ্যাই বেশি। বর্তমানে অসংখ্য গোলগাছে ঝুলছে ফলের কাঁদি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গোলফলের কাঁদি থেকে রস সংগ্রহ করে উন্নতমানের গুড় তৈরি করা সম্ভব। প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত এ গুড় স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় এর চাহিদাও রয়েছে। সুন্দরবন উপকূলীয় বিভিন্ন জেলার অনেক মানুষ গোলগাছের রস থেকে গুড় তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। চিত্রাপাড়ে বিপুলসংখ্যক গোলগাছ থাকায় স্থানীয়রাও ফল বিক্রির পাশাপাশি গুড় উৎপাদনের মাধ্যমে বাড়তি আয় করতে পারেন।

বাগেরহাট সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শাহিন কবির বলেন, চিত্রাপাড়ের মিনি সুন্দরবনে সম্ভাবনার অনেক দিক রয়েছে। এখানে প্রাকৃতিকভাবে সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছপালা গড়ে উঠেছে। গোলগাছ থেকে গুড় তৈরি ছাড়াও নানাভাবে আয় করার সুযোগ রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি এলাকার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সিফাত-আল-মারুফ বলেন, গোলফল অনেকের কাছেই প্রিয় খাবার। তালের মতো দেখতে এ ফলের ভেতরে শাঁস থাকে, যার স্বাদও বেশ ভিন্ন। গোলফল থেকে খাঁটি রস সংগ্রহ করে পরিবেশসম্মতভাবে গুড় তৈরি করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন উপকূলীয় দাকোপ এলাকায় কৃষি অফিসের মাধ্যমে চাষিদের গোলের গুড় তৈরির বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চিত্রাপাড়ের কেউ বাণিজ্যিকভাবে গোল থেকে গুড় উৎপাদন করতে চাইলে কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হবে।

প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা চিত্রাপাড়ের এই মিনি সুন্দরবন তাই শুধু জীববৈচিত্র্যের আধার নয়, স্থানীয় মানুষের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনারও দ্বার খুলে দিতে পারে।