tanaka
প্রচ্ছদরাজনীতিপ্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির ৫ দিনের কর্মসূচি: প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষা

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির ৫ দিনের কর্মসূচি: প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষা

দীর্ঘ চড়াই-উতরাই, দেড় দশকেরও বেশি সময়ের রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে আজ ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৭৮ সালের এই দিনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত দলটি এবার রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে।

দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম শেষে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে যেমন উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে, তেমনি সামনে এসে দাঁড়িয়েছে বিশাল জনপ্রত্যাশা পূরণের কঠিন পরীক্ষা। একদিকে রাজনৈতিক বিজয়ের স্বস্তি, অন্যদিকে অর্থনীতি পুনর্গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনিক সংস্কার ও জনগণের জীবনযাত্রার উন্নয়ন—সব মিলিয়ে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বিএনপির জন্য অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় তাৎপর্যপূর্ণ।

দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণী দিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘোষণা করা হয়েছে পাঁচ দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি। তবে এবারই প্রথম সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে বিএনপি। ফলে আনন্দের পাশাপাশি দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে গভীর শোক ও আবেগ।

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে আবেগঘন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কিংবা অন্য কোনো জাতীয় দিবস এলেই তারা খালেদা জিয়াকে পাশে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকতেন। তাকে সঙ্গে নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠসহ নানা কর্মসূচি পালন করতেন তারা। দলের নেতাকর্মীদের কাছে খালেদা জিয়া ছিলেন দীর্ঘদিনের প্রেরণা ও রাজনৈতিক সাহসের প্রতীক।

এবার সেই পরিচিত দৃশ্য নেই। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দকে অনেকটাই বিষাদময় করে তুলেছে। নেতাকর্মীদের কাছে এবারের দিনটি তাই একই সঙ্গে উদযাপন ও স্মরণে পরিণত হয়েছে।

ক্ষমতায় এসে নতুন বাস্তবতায় বিএনপি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৪৮ বছর পেরিয়ে বিএনপি এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজনৈতিক ত্যাগের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা দলটির সামনে রয়েছে দেশ পরিচালনার মাধ্যমে নিজেদের নতুনভাবে প্রমাণ করার সুযোগ।

দেড় দশকের বেশি সময় রাজপথে বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকার পর এখন বিএনপিকে দায়িত্বশীল, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক সরকার হিসেবে নিজেদের সক্ষমতা দেখাতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করার ওপর নির্ভর করবে দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

বিশ্লেষকদের ভাষায়, বিএনপির সামনে এখন মূল প্রশ্ন হলো—আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত রাজনৈতিক সাফল্যকে তারা কতটা কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনায় রূপ দিতে পারে।

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি ছিলেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। এর আগে জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল—জাগদল এবং জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট গঠন করেন।

পরবর্তী সময়ে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা রেস্তোরাঁয় এক সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে জাগদল, মশিউর রহমান যাদু মিয়ার নেতৃত্বাধীন ন্যাপ, আবদুল হালিম-আকবর হোসেনের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস পার্টি, আবদুল মতিনের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি এবং শাহ আজিজুর রহমানের মুসলিম লীগের রাজনৈতিক কাঠামো বিএনপির সঙ্গে একীভূত হয়।

১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপির নেতৃত্বের ভার নেন তার সহধর্মিণী খালেদা জিয়া। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় তিনি দলটির নেতৃত্বে থেকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রধান মুখ হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। বর্তমানে দলের নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক রহমান।

২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান বিএনপির নেতৃত্বে আরও সক্রিয় হন।

দেড় দশক পর অনুকূল পরিবেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় পর তুলনামূলক অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে বিএনপি। অতীতের মতো হামলা, মামলা ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কা না থাকায় দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে এবার স্বস্তি ও উৎসাহ রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে এককভাবে সরকার গঠন করে বিএনপি।

তবে ক্ষমতায় আসার পর দলটির রাজনৈতিক অগ্রাধিকারেও পরিবর্তন এসেছে। রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রশাসন, অর্থনীতি ও বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে ব্যস্ত থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে আগের তুলনায় কিছুটা ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গাভাব থাকলেও একই সঙ্গে অনেকে এখন হিসাব কষছেন—নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কতটা বাস্তবায়ন হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ কতটা সুফল পাচ্ছে।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

সংশ্লিষ্টদের মতে, সাড়ে চার দশকের বেশি রাজনৈতিক পথচলায় বিএনপি কখনো ক্ষমতায় থেকেছে, আবার দীর্ঘ সময় বিরোধী দল হিসেবেও রাজপথে আন্দোলন করেছে। বিশেষ করে গত দেড় দশকের বেশি সময় দলটির নেতাকর্মীদের বড় অংশ রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির সামনে দেশ পুনর্গঠনের বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তৈরি হয়েছে একাধিক চ্যালেঞ্জ।

ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক ঐক্য ধরে রাখা, বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখা, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েন সামাল দেওয়া, তরুণ প্রজন্মের আস্থা ধরে রাখা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন—এসব বিষয় সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

এর পাশাপাশি ৯ম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়ন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিকে গতিশীল করাও সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিএনপি নেতাদের প্রত্যাশা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের সাংগঠনিক অবস্থা শক্তিশালী এবং চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে তা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। তবে সরকারে থাকায় প্রতিটি নেতাকর্মীর দায়িত্ব জনগণের পাশে থাকা এবং সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা।

দলের চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু বলেন, বিএনপি জনগণের দল এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি এখন আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী। তার ভাষ্য, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের ঐক্য অটুট রেখে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নেওয়া সম্ভব হবে।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বিএনপি নানা ঘাত-প্রতিঘাত, চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেও টিকে আছে।

অর্থনীতি ও সুশাসনই বড় পরীক্ষা

বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি সরকারে আসায় দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা, প্রশাসনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং দেশের ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাওয়া স্পষ্ট জনরায় বিএনপির প্রতি জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশা—দুইয়েরই প্রতিফলন। এই জনসমর্থন সরকারের সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে শক্তি জোগাতে পারে।

তবে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, রিজার্ভের চাপ, কর্মসংস্থানের সংকট, বিনিয়োগের ধীরগতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দ্রুত মোকাবিলা করা সহজ হবে না। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে সরকারের প্রতি অসন্তোষ তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও থাকবে।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন বিরোধী দলে থাকার পর ক্ষমতার প্রভাব নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে অনিয়ম, দুর্নীতি বা অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের জন্ম দিতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা তাই নেতৃত্বের জন্য বড় পরীক্ষা।

পাশাপাশি পুলিশ ও প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে কার্যকর, নিরপেক্ষ ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের কাজও সময়সাপেক্ষ।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি ও সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা, আন্দোলনে ধারাবাহিক ব্যর্থতা এবং সাংগঠনিক কিছু দুর্বলতা বিএনপিকে একটি ভিন্ন বাস্তবতায় দাঁড় করিয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি ঐক্যবদ্ধ ছিল, যা বর্তমানে আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

তার মতে, তরুণদের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মসংস্থান পরিকল্পনা, দুর্নীতি দমন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে বিএনপির জনপ্রিয়তা আরও সুসংহত হতে পারে।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সাহাবুল হক বলেন, বিএনপির ৪৮ বছরের পথচলা রাজনৈতিক অস্তিত্বের দীর্ঘ এক অধ্যায়। জনগণের ভোটে ক্ষমতায় ফেরা দলটির বড় অর্জন হলেও ভোটে জয় পাওয়ার চেয়ে বড় পরীক্ষা হলো রাষ্ট্র পরিচালনা।

তার মতে, বর্তমানে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং প্রশাসনের সক্ষমতা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু উদযাপনের উপলক্ষ নয়, বরং আত্মপর্যালোচনারও সময়। জনগণের রুটি-রোজগারের প্রশ্নে সরকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং সুশাসনের মানদণ্ডে নিজেদের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করতে হবে।

৫ দিনের কর্মসূচি

৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি পাঁচ দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির শুরু হচ্ছে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে।

আজ সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিবসটি পালনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—

  • প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন;
  • কেন্দ্রীয়ভাবে আলোচনা সভা;
  • সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি;
  • মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচি;
  • দলীয় ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুরুতে আজ মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়সহ সারা দেশের জেলা কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ইতোমধ্যে দল ও অঙ্গসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে পোস্টারও প্রকাশ করা হয়েছে।

উদযাপনের আড়ালে যে প্রশ্ন

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবার নিছক একটি সাংগঠনিক দিবস নয়। দীর্ঘ আন্দোলনের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা দলটির সামনে এখন প্রমাণের পালা—তারা কতটা দক্ষতার সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে।

রাজপথের সংগ্রাম থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসা বিএনপির জন্য তাই এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী একদিকে অতীতের অর্জন স্মরণের দিন, অন্যদিকে ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের সময়। রাজনৈতিক বিজয়ের পর শাসনের পরীক্ষায় দলটি কতটা সফল হয়, সেটিই আগামী দিনে বিএনপির রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার সবচেয়ে বড় মাপকাঠি হয়ে উঠবে।