ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রবাসী ভোটারদের কাছে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে প্রতীক ও প্রার্থীদের নামের বিন্যাসে ‘কৌশলগত পক্ষপাত’ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির দাবি, এই বিন্যাস উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দিতে করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ অভিযোগ জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান।
বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়াসহ দলটির অন্যান্য নেতারা।
বৈঠক শেষে নজরুল ইসলাম খান বলেন, পোস্টাল ব্যালটে পাঁচটি কলাম ও ১৪টি সারি রাখা হয়েছে, যার ফলে তিনটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক প্রথম লাইনে চলে এসেছে। অথচ বিএনপির প্রতীকটি এমন স্থানে রাখা হয়েছে, যেখানে ব্যালট পেপার ভাঁজ করলে সেটি স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে না।
তিনি বলেন, “যদি পাঁচটির পরিবর্তে ছয়টি কলাম বা ১৪টির বদলে ১২ কিংবা ১৬টি সারি রাখা হতো, তাহলে এই সমস্যার সৃষ্টি হতো না। তাই আমরা মনে করি, এটি পরিকল্পিতভাবেই করা হয়েছে।”
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, প্রতীক ও নাম আলফাবেটিক্যাল ক্রমে সাজানো হয়েছে। তবে বিএনপির বক্তব্য হলো—যারা ভেতরে এই কাজটি করেছেন, তারা বিষয়টি জেনেশুনেই করেছেন।
তিনি জানান, দেশের ভেতরে যেসব পোস্টাল ব্যালট এখনো পাঠানো হয়নি, সেগুলোতে যেন এই ধরনের কৌশল প্রয়োগ না হয়, সে জন্য কমিশনের কাছে সংশোধনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে বাহরাইনে পোস্টাল ব্যালট বিতরণে অনিয়মের অভিযোগও তুলেছে বিএনপি। নজরুল ইসলাম খান বলেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাদের দ্বারা একাধিক ব্যালট পেপার হ্যান্ডেল করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে বলে জানিয়েছে এবং বাহরাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কমিশন আশ্বাস দিয়েছে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, কমিশন জানিয়েছে—ভোটে কারচুপির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ভোটার আইডি ব্লক করা হবে। বিএনপি চায়, যারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বিএনপি
গণভোট প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি সংস্কারের পক্ষে এবং গণভোটে দলটি ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, শুধু ফ্যামিলি কার্ড নয়, কৃষকদের জন্য ফারমার্স কার্ড চালুর পক্ষেও বিএনপি।
দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু প্রার্থীর নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। একই কারণে জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে—তাদের ক্ষেত্রেও রিভিউয়ের সুযোগ থাকা প্রয়োজন বলে মনে করে বিএনপি।
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, অতীত সরকারের নিপীড়নের কারণে অনেকে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিতে বাধ্য হয়েছেন। সেই বাস্তবতা বিবেচনা না করে প্রার্থিতা বাতিল করা অন্যায় হবে।
তিনি জানান, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় রাখতে দলের চেয়ারপারসনের উত্তরবঙ্গ সফর বাতিল করা হয়েছে। সফরটি রাজনৈতিক না হলেও নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে তা স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে অন্য কিছু রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে প্রচারণা চালালেও কমিশনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো নজির দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, জেলা পর্যায়ে এসপি নিয়োগ ও বদলি লটারির মাধ্যমে হয়েছে। এতে বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এ নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হলে তা রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখা হবে।



