পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর আরোপিত লেভি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে চলমান আন্দোলন স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী ফোন করে এ অনুরোধ জানিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জামায়াতের এক মুখপাত্র। এর আগে দলটির আমির হাফিজ নাঈমুর রহমান মুলতানে পৌঁছে রাজধানীমুখী ‘ট্রেন মার্চ’-এর নেতৃত্ব দেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে হাফিজ নাঈম বলেন, জামায়াত সরকারকে কোনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বা সংঘাতের দিকে নিতে চায় না। তবে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও দাবিগুলো তুলে ধরতেই তারা রাজপথে নেমেছে। তাই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকারকে সরকারকে সম্মান করতে হবে।
আন্দোলন স্থগিতের প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ দলের শুরা কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সরকারের অনুরোধে কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও প্রতিবাদ করার অধিকার জামায়াত ছাড়বে না।
মুলতানে পৌঁছেছে ‘ট্রেন মার্চ’
সোমবার গভীর রাতে জামায়াতের ‘ট্রেন মার্চ’ মুলতানে পৌঁছায়। সেখানে রেলস্টেশনে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন হাফিজ নাঈম। তিনি দাবি করেন, ট্রেনটি প্রায় চার ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছালেও সমর্থকদের উপস্থিতিতে কোনো ঘাটতি ছিল না।
তিনি বলেন, যারা কর্মসূচি ঠেকানোর ষড়যন্ত্র করেছিল, তারা মুলতানে জামায়াতকে স্বাগত জানাতে মানুষের উপস্থিতি দেখেছে।
বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার বিভিন্ন এলাকাতেও মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে বলে দাবি করেন জামায়াত আমির। মুলতানের পর মার্চ দক্ষিণ পাঞ্জাব হয়ে মধ্য পাঞ্জানের দিকে যাবে। সরকারের স্থাপন করা কনটেইনার দিয়ে এই কর্মসূচি থামানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর আরোপিত যে লেভিকে জামায়াত ‘অন্যায্য কর’ হিসেবে উল্লেখ করছে, তা প্রত্যাহার এবং জনগণকে অর্থনৈতিক স্বস্তি দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন হাফিজ নাঈম। তিনি বলেন, সরকার জনগণকে স্বস্তি দিলে জামায়াতের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কোনো অহমিকার বিষয় নেই।
সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরছে জামায়াত
জামায়াত আমির বলেন, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরতেই তারা আন্দোলন করছেন। গম, ময়দা ও চিনির দাম বাড়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব কারণে সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে।
ময়দা ও চিনি ব্যবসায়ীদের প্রভাব নিয়েও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে চিনি আমদানি-রপ্তানি বিষয়ে সরকারের নীতির সমালোচনা করেন। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তির বিরুদ্ধেও অতীতে জনগণের স্বার্থে জামায়াত আন্দোলন করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রোববার করাচি থেকে পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে দীর্ঘ মার্চ শুরু করে জামায়াত। ট্রেন ও সড়কপথে কর্মসূচিটি ইসলামাবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মুলতানের পর জামায়াতের বহর লাহোর হয়ে শেষ ধাপে ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: জিও নিউজ



