বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেছেন, পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি ইস্যু করে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির মাধ্যমে আসন্ন নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘সোসাইটি অব বাংলাদেশি ফার্মাসিস্ট’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ তাদের উপার্জনের প্রায় ৭০ শতাংশ ব্যয় করে স্বাস্থ্যসেবার পেছনে। কিন্তু এই ব্যয়ের বড় একটি অংশ অপচয় হচ্ছে, বিশেষ করে ভুল রোগ নির্ণয় ও ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে। অথচ আমরা অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের কথা বললেও এ দিকটি অবহেলিত থেকে যাচ্ছে।”
রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, “দেশের অধিকাংশ ফার্মেসিতে যারা কাজ করেন, তারা মাত্র ৩-৪ মাসের ট্রেনিং নিয়ে ওষুধ বিক্রি করছেন। তারা অনেক সময় প্রেসক্রিপশন ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক সরবরাহ করছেন, যা রোগীদের অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স কমিয়ে দিচ্ছে এবং চিকিৎসা খরচ বাড়িয়ে তুলছে। এই সমস্যার সমাধানে ফার্মাসিস্টদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অধীনে সরকারি হাসপাতালে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি।”
তিনি জুলাই মাসে আহতদের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “তাদের প্রকৃত পরিসংখ্যান এখনো প্রকাশিত হয়নি। অনেকেই সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এমনকি যাদের বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল, তারাও সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত।”
রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে রফিকুল ইসলাম বলেন, “যারা একসময় ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে একসাথে ছিলেন, তারা এখন নতুন ইস্যু তৈরি করে রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন। সরকার যে নির্বাচন আয়োজনের দিকে এগোচ্ছে, সেটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই পিআর পদ্ধতির মতো অবাস্তব ইস্যু সামনে আনা হচ্ছে। অথচ তারা নিজেরাই জানেন, পিআর পদ্ধতি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য কার্যকর নয়।”
তিনি বলেন, “এদের পেছনে কারা রয়েছে, তা আমাদের ভাবতে হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের গণতন্ত্রকে টেকসই করতে সহায়ক নয়। গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে হলে জনগণের ভাষা ও চাহিদা বোঝা জরুরি। আমি তাদের প্রতি আহ্বান জানাই—পিআর পদ্ধতির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করুন।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএমইউ-এর বেসিক অ্যান্ড প্যারা ক্লিনিক্যাল ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী, ২৪-এর আন্দোলনের সম্মুখ সারির নেতা ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. সোহেল রানা প্রমুখ।



