বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাহাড়ের কোনো প্রতিনিধিকে না দিয়ে সমতলের একজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এতে স্পষ্ট হয় যে সরকার পার্বত্য অঞ্চলের চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিসত্তা কিংবা পাহাড়ি বাঙালি—কোনো জনগোষ্ঠীরই যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পারেনি।
রোববার চট্টগ্রাম নগরের জামালখান এলাকায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হলে আয়োজিত ‘পাহাড়ে জুলাই: সমমর্যাদা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগ ও তিন পার্বত্য জেলা কমিটি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “দীপেন দেওয়ানকে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যিনি রয়েছেন, তিনি সমতলের একজন বাঙালি। তিনি পাহাড়ের নন, পাহাড়ি বাঙালিও নন এবং পার্বত্য অঞ্চলের কোনো নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীরও প্রতিনিধি নন। তারপরও তিনি ওই দায়িত্ব পালন করছেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে আওয়ামী লীগ এবং বর্তমানে বিএনপিও বিভিন্ন সম্প্রদায়কে ভোটের আগে ব্যবহার করেছে, কিন্তু নির্বাচনের পর তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি।
পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি, লুটপাট, জবাবদিহির অভাব, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের কারণে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। এসব সমস্যার সমাধানে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সংলাপের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকটের সমাধান প্রয়োজন। তাঁর মতে, সামরিক উপায়ে পাহাড়ের সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে সমান সুযোগ নিশ্চিত করে সব জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় যুক্ত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, জুলাই সনদে দলটি বহুত্ববাদের (প্লুরালিজম) পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশ বহু জাতি, বহু ভাষা ও বহু ধর্মের মানুষের দেশ এবং সবাই সমানভাবে এ দেশের নাগরিক। তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদের ‘সবাই বাঙালি’ ধারণা পরিবর্তনেরও প্রস্তাব করেছে এনসিপি।
এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ ও সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্যসচিব সাগুফতা বুশরা মিশমা, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জোবাইরুল হাসান, কেন্দ্রীয় সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) মনজিলা ঝুমা, চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়েব, বান্দরবান জেলা আহ্বায়ক মংসাপ্রু মারমা, খাগড়াছড়ি জেলা আহ্বায়ক নুর আলম সিদ্দিকী এবং রাঙামাটি জেলা সদস্যসচিব মোহাম্মদ শোয়েব।



