পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে প্রকাশিত বিভিন্ন জরিপে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। প্রথম দফার ভোটের মাত্র দুই দিন আগে পর্যন্তও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না—শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাবে ক্ষমতা। মঙ্গলবার একাধিক সংস্থার জরিপ প্রকাশের পর দেখা গেছে, কোথাও তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে, কোথাও বিজেপি, আবার কিছু ক্ষেত্রে দুই দলের অবস্থান প্রায় সমান।
টাইমস নাউ ও এবিপি সি-ভোটারের যৌথ সমীক্ষায় ২৯৪ আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসকে ১৫৮ এবং বিজেপিকে ১১৫ আসন পেতে দেখা গেছে। সিপিএম-কংগ্রেস জোট পেতে পারে ১৯ আসন। পি-মার্কের জরিপেও প্রায় একই চিত্র—তৃণমূল ১৫৮, বিজেপি কিছুটা বেড়ে ১২০ এবং সিপিএম-কংগ্রেস কমে ১৪ আসন পেতে পারে। উল্লেখ্য, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮ আসনের সমর্থন।
অন্যদিকে, ইন্ডিয়া টুডে-অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার জরিপে লড়াইকে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাদের হিসাবে বিজেপি পেতে পারে ১৪৭ আসন, তৃণমূল কংগ্রেস ১৪৩ এবং সিপিএম-কংগ্রেস মাত্র ২ আসন। রিপাবলিক-সিএনএক্সের জরিপেও কাছাকাছি ফলাফল উঠে এসেছে—বিজেপি ১৪৩, তৃণমূল ১৩৩ এবং সিপিএম প্লাস ১৬।
ইটিজি রিসার্চের সমীক্ষা অবশ্য তৃণমূল কংগ্রেসের স্পষ্ট জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাদের মতে, তৃণমূল পেতে পারে ১৬৯ আসন, আর বিজেপি ১১০। ইপসোসের জরিপেও তৃণমূলকে এগিয়ে রাখা হয়েছে—তাদের হিসাবে তৃণমূল ১৫০, বিজেপি ১১৫ এবং সিপিএম প্লাস ১৯ আসন পেতে পারে।
এদিকে পোলস্টার্টের জরিপে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে ব্যবধান খুবই কম দেখা গেছে। তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ১৪৭, বিজেপি ১৩০ এবং সিপিএম প্লাস ১৫ আসন।
তবে এসব জরিপ চূড়ান্ত ফলাফলের নিশ্চয়তা দেয় না। ভোটের দিন পরিস্থিতি ও ভোটারদের শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তে সমীকরণ বদলে যেতে পারে—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।



