ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় ধরনের ভুল’ হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু ব্যক্তিগত স্বার্থে লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আরাঘচি বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলার গতি ত্বরান্বিত হতে পারে। তার মতে, লেবাননসহ পুরো অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন হলে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক চাপে পড়তে পারেন। এ কারণেই তিনি সংঘাত দীর্ঘায়িত করতে চাইছেন বলে ইঙ্গিত দেন ইরানের এই মন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “নেতানিয়াহুকে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নষ্ট করার সুযোগ দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হতে পারে, তবে আমরা মনে করি এটি বোকামি।”
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, তারা যেন লেবানন ইস্যুতে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন না করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ঘোষিত যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না—এই প্রশ্নে বড় ধরনের মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ইরান দাবি করছে, লেবাননও এই চুক্তির আওতায় রয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তা মানতে নারাজ।
ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে তারা সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রনালি বন্ধ করার মতো কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি নেতানিয়াহুকে লেবাননে সামরিক অভিযান সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। একইভাবে ভ্যান্সও বলেছেন, ইসরায়েল আংশিকভাবে তাদের কার্যক্রম কমাতে সম্মত হয়েছে।
তবে বাস্তবে লেবাননে হামলা কমার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবাননের বোরজ কালাউইয়ে এলাকায় এক হামলায় চারজন উদ্ধারকর্মী নিহত হন। এছাড়া রাজধানী Beirut-এর জনাহ এলাকায় বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ওই এলাকায় বড় দুটি হাসপাতালসহ হাজারো মানুষের বসবাস রয়েছে।



