লেবাননে ইসরায়েলের টানা হামলায় ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির প্রথম দিনই বুধবার লেবাননে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় হামলা চালায় ইসরায়েল, যা বৃহস্পতিবারও অব্যাহত থাকে। এতে নিহতের সংখ্যা আড়াইশ ছাড়িয়ে গেছে। ইরান ও পাকিস্তান জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত—এবং সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তেহরান হুঁশিয়ার করে বলেছে, হামলা বন্ধ না হলে তারা যুদ্ধবিরতি থেকে সরে আসতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল লেবাননে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে; জাতিসংঘসহ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়া লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ২৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন এক হাজার ১০০ জনের বেশি। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাকিস্তান এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, তাদের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। তবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, লেবাননে হিজবুল্লাহবিরোধী অভিযান এই যুদ্ধবিরতির অংশ নয়।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এই হামলাকে ‘নির্বিচার’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্বের জন্য সরাসরি হুমকি। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারও হামলাকে ক্ষতিকর উল্লেখ করে লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় আনার আহ্বান জানান।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি এমন অবজ্ঞা অগ্রহণযোগ্য। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি লেবাননের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছেন এবং সতর্ক করেছেন—“আরেকটি গাজা পরিস্থিতি দেখতে চাই না।”
কাতার এই হামলাকে ভয়াবহ উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। তুরস্কও কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি যুদ্ধবিরতির জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন এবং এতে শান্তি আলোচনা অর্থহীন হয়ে পড়বে। তিনি লেবাননের জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। একইসঙ্গে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ লেবাননকে যুদ্ধবিরতির ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’ বলে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুমকি দিয়ে বলেছেন, যেখানে প্রয়োজন সেখানেই হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল লেবাননে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে আসছে, যা তারা হিজবুল্লাহবিরোধী অভিযান হিসেবে বর্ণনা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে এবং চলমান শান্তি প্রচেষ্টাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলছে।



