বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আসন্ন নির্বাচনে আপনাদের (শিক্ষকদের) বড় ভূমিকা আছে। কেউ যেন নির্বাচনকে ভিন্ন খাতে নিতে না পারে, সেদিকে আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে।”
মির্জা ফখরুল দাবি করেন, গণমাধ্যমে তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার প্রমাণ করে তিনি জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা রাখেন।
বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচিতে শিক্ষক সমাজের দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আমরা একটি বৈষম্যহীন, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চাই।”
সমাবেশে শিক্ষকদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল:
- বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন
- অবসর বয়স ৬৫ বছর নির্ধারণ
- নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানসমূহকে এমপিওভুক্ত করা
- শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
বিএনপির দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সেই সরকার আগামী ফেব্রুয়ারিতে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে চায়।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ইসলামপন্থী ছয়দল জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে এবং সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করছে। বিএনপি সহ কয়েকটি দল চায়, নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই ওই সনদ বাস্তবায়ন হোক, কিন্তু জামায়াত তা চাইছে নির্বাচনের আগেই।
বিএনপির আশঙ্কা, এই মতবিরোধের সুযোগে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র চলছে।
অন্যান্য বক্তারা:
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অধ্যাপক জাহিদ হোসেন, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহছানুল হক মিলনসহ শিক্ষক সমাজের নেতারা। ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান সেলিম ভূঁইয়া এবং সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত মহাসচিব জাকির হোসেন।



