tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকনির্বাচন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে উদ্বেগ

নির্বাচন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে উদ্বেগ

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) পার্লামেন্ট সদস্য অ্যাবিগেল বয়েড। সম্প্রতি দেশটির আইনসভায় তিনি এ বিষয়ে একটি নোটিশ অব মোশন জমা দেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত নির্বাচনকে ঘিরে অনিশ্চয়তা, সহিংসতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক করে তুলেছে।

মোশনে বয়েড বলেন, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক কাঠামো পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করা হয়েছে; রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং ভিন্নমত দমন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচারব্যবস্থা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে কার্যত অস্বীকার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত ১২টি নির্বাচনের মধ্যে মাত্র চারটিকে পর্যবেক্ষকরা গ্রহণযোগ্য বলেছেন—যেগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয়েছিল। ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একনায়কতান্ত্রিক প্রভাব এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিচারের অনুপস্থিতি আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আরও প্রশ্ন তুলছে।

মোশনে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাও তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম-৮ আসনের মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর ওপর গুলিবর্ষণ। এটিকে তিনি রাজনৈতিক টার্গেটিংয়ের উদ্বেগজনক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গণগ্রেপ্তার ও বিরোধীদের ওপর দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

২০২৪ সালের ‘বর্ষা বিপ্লবে’ শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের প্রচেষ্টার কথাও এতে উঠে আসে। তদন্তে দেখা যাচ্ছে, হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা শত শত কোটি টাকার সম্পদ বিদেশে পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বয়েড বলেন, প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটাধিকার পেলেও জটিল প্রক্রিয়া তাদের ভোট প্রয়োগে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। নতুন অ্যাপভিত্তিক ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ ব্যবস্থার সম্ভাব্য কারচুপির আশঙ্কাও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা প্রকাশ করেছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ১৮ জুন অস্ট্রেলিয়া প্রথম দেশ হিসেবে ‘বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক জেনারেল ইলেকশন সাপোর্ট (ব্যালট)’ প্রকল্পে যোগ দেয়—যা ইউএনডিপি, ইউএন উইমেন ও ইউনেস্কোর যৌথ উদ্যোগ।

অ্যাবিগেল বয়েড অস্ট্রেলিয়া সরকারকে বাংলাদেশ ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান। তার দাবির মধ্যে রয়েছে—

  • অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি দিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার অনুরোধ;
  • বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সকল প্রার্থীর নিরাপত্তা, চলাফেরা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের স্বাধীনতা নিশ্চিতে চাপ প্রয়োগ;
  • দুর্নীতি, অর্থপাচার ও জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার;
  • মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় সম্পৃক্ততা;
  • প্রবাসীদের জন্য ডাকভোট ব্যবস্থাকে নিরাপদ ও কারচুপিমুক্ত করতে সহযোগিতা।