ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চলমান সংলাপে জাতীয় পার্টি (জাপা) ডাক পায়নি। গত কয়েক মেয়াদে সংসদে বিরোধী দলের আসনে থাকা দলটি মনে করছে, দেশ একটি ‘পাতানো’ নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের এ দলটি নির্বাচনে না–ও অংশ নিতে পারে।
এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী জাগো নিউজকে বলেন, “জাতীয় পার্টি একটি নিবন্ধিত, অভিজ্ঞ রাজনৈতিক দল। আগামী নির্বাচনকে ঘিরে ইসি বিভিন্ন দলের সঙ্গে সংলাপ করলেও আমাদের ডাকেনি। দলের পক্ষ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া মেলেনি। এতে আমাদের মনে হচ্ছে নির্বাচন আগেই সাজানো হচ্ছে।”
ইসি নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করলেও নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগকে আমন্ত্রণ জানায়নি। এছাড়া আওয়ামী লীগের সহযোগী জাতীয় পার্টিসহ আরও সাত দলকেও ডাকা হয়নি। তবে ইসির দাবি, সংলাপে ডাক না পেলেও এসব দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই।
জাপা নেতাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় কর্মসূচি আয়োজনেও একের পর এক বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে দলটিকে।
এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংগঠন গোছানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি। পাশাপাশি জোটগতভাবে কার সঙ্গে যাওয়া উচিত—এ নিয়েও দলে আলোচনা চলছে।
মহাসচিব বলেন, “আগের জাতীয় নির্বাচনগুলোতে আমরা অংশ নিয়েছি, সেহেতু আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। যদি বিএনপি–জামায়াত আলাদাভাবে নির্বাচন করে, তাহলে জাতীয় পার্টি গুরুত্বপূর্ণ ভোট–ফ্যাক্টর হতে পারে।”
দলের নেতাদের অভিযোগ, জাতীয় পার্টির সামনে এখন পাহাড়সম বাধা। নানান অজুহাতে সাম্প্রতিক দলীয় কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলাও দেওয়া হয়েছে।



