tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়নিজামী মুজাহিদ সাঈদীর জন্য সংসদে শোক

নিজামী মুজাহিদ সাঈদীর জন্য সংসদে শোক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে শোকপ্রস্তাব নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশনে শোকপ্রস্তাবে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন শীর্ষ নেতা এবং বিএনপির এক নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বৃহস্পতিবার অধিবেশনের প্রথম দিনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর সংক্ষিপ্ত বিরতির শেষে সংসদের প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান এবং শুরা সদস্য মীর কাসেম আলীর নাম শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব ওঠে।

পরে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এসব নাম শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করার বিষয়টি অনুমোদন করেন। পাশাপাশি বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নামও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আলোচনা শেষে শোকপ্রস্তাবটি গৃহীত হয়।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে ওই সাতজনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি–জামায়াত জোট সরকারের মন্ত্রী ছিলেন মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। আর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ছিলেন সংসদ সদস্য।

তাদের মধ্যে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাঈদী কারাগারেই মারা যান। অন্যদিকে ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বাকি ছয়জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

বৃহস্পতিবার স্পিকার নির্বাচনের পর তার সভাপতিত্বে প্রথম অধিবেশন শুরু হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্টজন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিরা এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

শোকপ্রস্তাব উত্থাপনের পর চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম আরও কয়েকটি নাম অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানান। তার প্রস্তাবে মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পাশাপাশি ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মশিউর রহমানের নামও যুক্ত করার কথা বলা হয়। পরে স্পিকার তা অনুমোদন করেন।

এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বক্তব্য দিতে উঠে বলেন, শোকপ্রস্তাবে কয়েকজনের নাম বাদ পড়েছে। সেগুলো উপস্থাপনের জন্য তিনি বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে কথা বলার অনুরোধ করেন। স্পিকার তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন।

বক্তব্যে তাহের বলেন, শোকপ্রস্তাবটি “একপেশে করে তৈরি করা হয়েছে” এবং ভবিষ্যতে সংসদকে আরও নিরপেক্ষ ও প্রাণবন্ত করতে এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এ সময় তিনি আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে সেগুলো শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

তার প্রস্তাবিত তালিকায় মতিউর রহমান নিজামী, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আবদুস সোবহান, শেখ আনছার আলী, রিয়াসাত আলী, আবদুল খালেক মণ্ডল, হাফেজা আছমা খাতুন, রোকেয়া আনছার, সুলতানা রাজিয়া, রাশেদা খাতুন, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, এ কে এম ইউসুফ, নাজির আহমেদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা এবং মীর কাসেম আলীর নাম উল্লেখ করা হয়।

এ সময় শাপলা চত্বরের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শোকপ্রস্তাবে ‘জামায়াতে ইসলামী’-র পরিবর্তে ‘হেফাজতে ইসলাম’ শব্দটি ব্যবহার করা উচিত। একইসঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নিহতদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি প্রায় দুই হাজার শহীদের কথা বলেন এবং শরিফ ওসমান হাদীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধীদলীয় উপনেতা যেসব নাম উল্লেখ করেছেন, সেগুলো শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

স্পিকার আরও জানান, শোকপ্রস্তাবে ছালেহা খানম, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, কামাল ইবনে ইউসুফ এবং নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর নামও যুক্ত করা হবে।

এরপর প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম আরও কয়েকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন। তিনি গৌতম চক্রবর্তী, এম এ মতিন, মুজিবুর রহমান মঞ্জু, আনোয়ারুল হোসেন খান এবং এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারের নাম শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করার কথা বলেন। পাশাপাশি অন্য কোনো সাবেক সংসদ সদস্য বা বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম বাদ পড়ে থাকলে তা সংসদ সচিবালয়কে জানানোর আহ্বান জানান।