tanaka
প্রচ্ছদলাইফষ্টাইলরোলার কোস্টারের তীব্র ঝাঁকুনিতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, কতটা ঝুঁকিপূর্ণ রোমাঞ্চের রাইড?

রোলার কোস্টারের তীব্র ঝাঁকুনিতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, কতটা ঝুঁকিপূর্ণ রোমাঞ্চের রাইড?

দ্রুতগতিতে ছুটে চলা, আচমকা গতি পরিবর্তন, খাড়া ঢাল বেয়ে নেমে যাওয়া কিংবা মুহূর্তের মধ্যে তীব্র বাঁক—রোলার কোস্টারের এসব অভিজ্ঞতাই অনেকের কাছে রোমাঞ্চের মূল আকর্ষণ। তবে এমন তীব্র গতির রাইড শরীরের ওপর কতটা চাপ তৈরি করতে পারে, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ঘটনায় তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সিক্স ফ্ল্যাগস ম্যাজিক মাউন্টেনের ‘এক্স-২’ রোলার কোস্টারে চড়ার কয়েক দিনের মধ্যে দুই নারী গুরুতর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের শিকার হন। পরে দুজনেরই অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে বলে জানা গেছে।

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে, তাদের মস্তিষ্কে পাওয়া আঘাতের ধরন দ্রুতগতির গাড়ি দুর্ঘটনা বা বড় ধরনের আঘাতের সঙ্গে অনেকটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে কোনো নারীরই গাড়ি দুর্ঘটনা, পড়ে যাওয়া কিংবা অন্য কোনো গুরুতর আঘাতের ইতিহাস ছিল না। দুজনই একই সময়ে ‘এক্স-২’ রাইডে চড়েছিলেন।

তীব্র গতি কীভাবে মস্তিষ্কে চাপ তৈরি করতে পারে?

রোলার কোস্টারে শরীরের পাশাপাশি মাথাও দ্রুত বিভিন্ন দিকে নড়াচড়া করে। বিশেষ করে আচমকা গতি বাড়ানো বা কমানো এবং দ্রুত বাঁক নেওয়ার সময় শরীরের ওপর উল্লেখযোগ্য জি-ফোর্স তৈরি হতে পারে।

খুলি মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দিলেও হঠাৎ গতির পরিবর্তনে মস্তিষ্কের টিস্যু ও আশপাশের রক্তনালিতে চাপ পড়তে পারে। মাথা দ্রুত সামনে-পেছনে বা পাশের দিকে নড়লে মস্তিষ্ক খুলির ভেতরে আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়।

এর ফলে মস্তিষ্কের ভেতরে কিংবা মস্তিষ্ককে ঘিরে থাকা অংশে রক্তক্ষরণ হতে পারে। রক্তক্ষরণ গুরুতর হলে খুলির ভেতরে চাপ বেড়ে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ওই দুই নারীর রক্তক্ষরণের জন্য সরাসরি ‘এক্স-২’ রাইডকেই দায়ী করা হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে এখনো পৌঁছানো যায়নি। আগে থেকে থাকা কোনো শারীরিক সমস্যা, রক্তনালির অস্বাভাবিকতা বা অন্য কোনো কারণও এর পেছনে থাকতে পারে। রাইডের সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত সম্পর্ক নির্ধারণে আরও তদন্ত প্রয়োজন।

কেন আলোচনায় ‘এক্স-২’?

সিক্স ফ্ল্যাগস ম্যাজিক মাউন্টেনের ‘এক্স-২’কে তুলনামূলকভাবে উচ্চমাত্রার রোমাঞ্চের রাইড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে দ্রুতগতির চলাচলের পাশাপাশি খাড়া নিচে নামা, তীব্র বাঁক এবং বিভিন্ন ধরনের আকস্মিক গতি পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

দুই নারীর ঘটনার পর রাইডটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ক্যালিফোর্নিয়ার ডিভিশন অব অকুপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

রাইডের পর যেসব উপসর্গ অবহেলা করা যাবে না

রোলার কোস্টারে চড়ার পর সাময়িক মাথা ঘোরা বা অস্বস্তি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু কিছু উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন।

তীব্র বা হঠাৎ মাথাব্যথা, বারবার বমি, বিভ্রান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি, শরীরের কোনো অংশ দুর্বল বা অবশ হয়ে পড়া, কথা বলা বা বুঝতে সমস্যা, দৃষ্টির পরিবর্তন কিংবা অস্বাভাবিক ঘুম ঘুম ভাব দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

বিশেষ করে রাইডে ওঠার পর এসব লক্ষণ দেখা দিলে সেগুলোকে সাধারণ ঝাঁকুনির প্রতিক্রিয়া ভেবে অপেক্ষা করা ঠিক নয়। গুরুতর মাথার আঘাত বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা জটিলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রোমাঞ্চের পাশাপাশি প্রয়োজন সচেতনতা

নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনেই অধিকাংশ রোলার কোস্টার পরিচালিত হয়। তাই একটি ঘটনা থেকে সব ধরনের রোমাঞ্চকর রাইডকে বিপজ্জনক বলে ধরে নেওয়ার কারণ নেই।

তবে একই রাইডে চড়ার পর দুই নারীর গুরুতর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঘটনা অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি রাখে। ‘এক্স-২’-এর গতি, আকস্মিক দিক পরিবর্তন কিংবা জি-ফোর্সের সঙ্গে তাদের আঘাতের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক ছিল কি না, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে।

রোমাঞ্চ উপভোগের পাশাপাশি নিজের শারীরিক অবস্থার প্রতিও সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষ করে মাথা বা স্নায়ুতন্ত্র-সংক্রান্ত অস্বাভাবিক কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই নিরাপদ।