tanaka
প্রচ্ছদঅন্যান্যনাকের অ্যালার্জিতে বারবার হাঁচি—কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন?

নাকের অ্যালার্জিতে বারবার হাঁচি—কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন?

ঘন ঘন হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ থাকা কিংবা নাকে ও চোখে চুলকানি—এসব উপসর্গ অনেকের দৈনন্দিন জীবনে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এসব সমস্যার অন্যতম সাধারণ কারণ অ্যালার্জিক রাইনাইটিস। ধুলাবালি, ধোঁয়া, পরাগরেণু, ছাঁচ, পোষা প্রাণীর লোম বা ত্বকের ক্ষুদ্র কণার সংস্পর্শে এলে সংবেদনশীল ব্যক্তির নাকে অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

অ্যালার্জিক রাইনাইটিস নিয়ন্ত্রণে যা করবেন

১. অ্যালার্জির কারণ চিহ্নিত করে এড়িয়ে চলুন
কোন কোন উপাদানের সংস্পর্শে হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধের সমস্যা বাড়ে, তা লক্ষ্য করুন। সম্ভব হলে এসব উপাদান এড়িয়ে চলুন। ধুলাবালি ও ধোঁয়ার পরিবেশে প্রয়োজন অনুযায়ী ভালো মানের মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে।

২. ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখুন
বিছানার চাদর, বালিশের কভার ও পর্দা নিয়মিত পরিষ্কার করুন। ঘর ঝাড়ু দেওয়ার পরিবর্তে ভেজা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করলে বাতাসে ধুলা কম ছড়ায়। কার্পেট, ভারী পর্দা ও অতিরিক্ত নরম আসবাবপত্রে ধুলা জমে অ্যালার্জির উপসর্গ বাড়তে পারে।

৩. নাক পরিষ্কার রাখতে স্যালাইন ব্যবহার করতে পারেন
স্যালাইন নাসাল স্প্রে বা নাসাল ইরিগেশন নাকের ভেতরে জমে থাকা ধুলা, অ্যালার্জেন ও অতিরিক্ত শ্লেষ্মা পরিষ্কার করতে সহায়তা করতে পারে। নাসাল ইরিগেশনের ক্ষেত্রে অবশ্যই নিরাপদ পানি ও সঠিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। অপরিষ্কার বা অনিরাপদ পানি ব্যবহার করা উচিত নয়।

৪. ধোঁয়া, তীব্র গন্ধ ও দূষিত পরিবেশ এড়িয়ে চলুন
সিগারেটের ধোঁয়া, পারফিউম, স্প্রে, ধূপ, মশার কয়েলের ধোঁয়া, পেইন্টের গন্ধসহ বিভিন্ন তীব্র গন্ধ অনেকের হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে ট্রিগার এক নয়। ধুলো, ধোঁয়া, পরাগরেণু, পোষা প্রাণী, ঠান্ডা বাতাস কিংবা নির্দিষ্ট কোনো খাবারের কারণে উপসর্গ বাড়ছে কি না, তা লক্ষ্য করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনুন।

পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম সামগ্রিক সুস্থতার জন্য উপকারী। তবে ঠান্ডা পানি বা নির্দিষ্ট কোনো খাবার সব অ্যালার্জিক রাইনাইটিস রোগীর জন্য নিষিদ্ধ—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। কোনো নির্দিষ্ট খাবার খেলে ব্যক্তিগতভাবে উপসর্গ বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সেটি এড়িয়ে চলা যেতে পারে।

৫. ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের চিকিৎসা নয়। তবে এটি ফ্লু প্রতিরোধে কার্যকর এবং নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বয়স, শারীরিক অবস্থা ও স্থানীয় টিকাদান নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজন হলে প্রতিবছর ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন নেওয়া যেতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

হাঁচির সঙ্গে বারবার নাক বন্ধ থাকা, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বা চোখে চুলকানি, ঘুমের ব্যাঘাত কিংবা দৈনন্দিন কাজে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দীর্ঘদিন ধরে উপসর্গ চলতে থাকলেও নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

নিজে থেকে দীর্ঘদিন অ্যান্টিহিস্টামিন বা নাক খোলার ডিকনজেস্ট্যান্ট ব্যবহার না করাই ভালো। বিশেষ করে কিছু ডিকনজেস্ট্যান্ট নাসাল ড্রপ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে উল্টো নাক আরও বেশি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সঠিক রোগ নির্ণয়, অ্যালার্জির কারণ শনাক্ত করে তা এড়িয়ে চলা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের উপসর্গ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

মনে রাখুন: ঘন ঘন হাঁচিকে শুধু সাধারণ অভ্যাস হিসেবে না দেখে এর পেছনে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক: ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী, এফসিপিএস (ইএনটি)
সহকারী অধ্যাপক (ইএনটি)
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সি