গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তর নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য সরকারি বাসা বরাদ্দের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে। বুধবার এ কার্যক্রম শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কাছে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক বরাদ্দপত্র পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পরিদপ্তর।
রাজধানীর হেয়ার রোড, মিন্টো রোড ও বেইলি রোড এলাকা দীর্ঘদিন ধরে ‘মন্ত্রিপাড়া’ হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা এসব সরকারি বাংলোয় বসবাস করছিলেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নিয়ে সরকার গঠন করে। দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হলে সদ্য বিলুপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা পর্যায়ক্রমে বাংলো ছাড়তে থাকেন।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তর জানিয়েছে, অধিকাংশ উপদেষ্টা ইতোমধ্যে বাসা ছেড়ে দিয়েছেন। সর্বশেষ সোমবার তিনজন সাবেক উপদেষ্টা বাংলো ছাড়েন। আরও দুজন শিগগিরই বাসা ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আগে থেকেই মিন্টো রোডের ৩৩ নম্বর বাংলোয় বসবাস করছেন। তিনি মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন। পরে তাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়। ফলে তিনি আগের বাংলোতেই বহাল রয়েছেন।
কে কোথায় পেলেন
সরকারি আবাসন পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে,
- স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর — ৩৫ হেয়ার রোড
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ — ২৪ বেইলি রোড
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) — ৫ হেয়ার রোড
- সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন — ২৫ বেইলি রোড
- ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ — ৭ মিন্টো রোড
- ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু — ২ মিন্টো রোড
- সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী — ৫ মিন্টো রোড
- আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান — ১ হেয়ার রোড
- পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি — ৬ হেয়ার রোড
এ ছাড়া,
- বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা — ১ মিন্টো রোড
- স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন — ৪ মিন্টো রোড
- শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন — ৩৪ মিন্টো রোড
- ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম — ৪১ মিন্টো রোড
- প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ — ২ হেয়ার রোড
মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খানকে বেইলি রোডে বাংলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে গুলশানে সরকারি বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে ধানমন্ডিতে সরকারি বাসা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীদের জন্য ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট’
প্রতিমন্ত্রীদের জন্য হেয়ার রোডের ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট’-এ ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখানে তিনটি দশতলা ভবনে মোট ৩০টি ফ্ল্যাট রয়েছে।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, নতুন মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের বাসায় উঠতে কিছুটা সময় লাগবে। কয়েকটি বাসায় সংস্কারকাজ বাকি রয়েছে। আগামী ঈদুল ফিতরের পর তারা সরকারি বাসায় উঠতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।



