প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এখন থেকে আমাদের মূল কাজ হবে দেশ গঠন ও রাষ্ট্র পুনর্গঠন। এ লক্ষ্যেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না, এমন বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, যার সুফল দেশের সাধারণ মানুষ পাবে।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় খোর্দ্দ খাল পুনর্খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাই, যা দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেবে এবং মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন ঘটাবে।
খাল পুনর্খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রায় ৪৮ বছর আগে যে উদ্যোগ শুরু করেছিলেন, আজ তারই ধারাবাহিকতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি সবাইকে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিএনপি জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি জনগণই রাজনৈতিক শক্তির মূল উৎস। জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকলে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।
দেশের উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এ খাল খনন কর্মসূচি থেকে আমাদের অঙ্গীকার হোক— “আমরা কাজ করব, সবার আগে বাংলাদেশ।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপি কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী। জনগণ আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে, তাই নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন এবং কৃষকদের কৃষি কার্ড প্রদানের মতো কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হবে।
কৃষি ও অর্থনীতির উন্নয়নের লক্ষ্যে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনর্খননের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়ন, খাদ্য সংকট মোকাবিলা এবং অর্থনীতিতে নতুন গতি সৃষ্টি হবে।
এর আগে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে তিনি শাহরাস্তির টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় খোর্দ্দ খাল পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় ফলক উন্মোচনের পাশাপাশি খালের পাড়ে নেমে কোদাল দিয়ে মাটি কাটেন এবং বৃক্ষরোপণ করেন।
চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
উল্লেখ্য, খোর্দ্দ খালটি প্রথম খনন করা হয় ১৯৭৮ সালে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে। প্রায় ১৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালটি ডাকাতিয়া নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। একসময় এ খালের পানি ব্যবহার করে এলাকার কৃষকরা কৃষিকাজে ব্যাপক সুফল পেতেন। দীর্ঘ ৪২ বছর পর পুনর্খনন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।



