বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রতিবছর শত শত কোটি টাকার মুনাফা অর্জন করছে। সম্পদ, আমানত, করপোরেট ব্যাংকিং ও বৈদেশিক বাণিজ্য অর্থায়নে শক্তিশালী অবস্থান থাকলেও দেশের পুঁজিবাজারে তাদের কোনো উপস্থিতি নেই। ফলে এসব ব্যাংকের মুনাফায় অংশীদার হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না স্থানীয় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি ব্যাংকগুলো দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে লাভজনক ব্যবসা পরিচালনা করলেও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত না থাকায় দেশীয় বিনিয়োগকারীরা তাদের মালিকানায় অংশ নিতে পারছেন না। তাই এ বিষয়ে বিদ্যমান নীতিমালা পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে বলে মনে করছেন তারা।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিদেশি ব্যাংকগুলোর ব্যবসায়িক মডেল মূলত উচ্চমানের করপোরেট গ্রাহক, ট্রেড ফাইন্যান্স, ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট এবং বৈদেশিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। ফলে আমানতের ওপর তুলনামূলক কম চাপ নিয়েই তারা উচ্চ আয় করতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের হার কম থাকায় পরিচালন মুনাফার বড় অংশ কর-পরবর্তী নিট মুনাফায় পরিণত হয়।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংখ্যায় সীমিত হলেও বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা, সম্পদের গুণগত মান, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং মুনাফার দিক থেকে অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। বর্তমানে মাত্র ৯টি বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে করপোরেট ব্যাংকিং, বৈদেশিক বাণিজ্যে অর্থায়ন এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং সেবা প্রদানে এসব ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।



