tanaka
প্রচ্ছদলাইফস্টাইলদেশে থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন ৫ কোটি মানুষ

দেশে থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন ৫ কোটি মানুষ

দেশে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন। আক্রান্ত নারীদের মধ্যে ৬০ শতাংশই জানেন না যে তাঁরা এ রোগে আক্রান্ত। এ ছাড়া প্রতি ২ হাজার ৩০০ শিশুর মধ্যে একজন থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এমন পরিস্থিতিতে থাইরয়েড রোগ প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুক্রবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির (বিটিএস) অষ্টম আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও বার্ষিক সাধারণ সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

আধুনিক চিকিৎসা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ

‘থাইরয়েড সেবায় শিক্ষা, উদ্ভাবন ও কার্যকর উদ্যোগ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, মানসম্মত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। থাইরয়েডসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিটিএসের সভাপতি ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের (নিনমাস) পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, বিটিএসের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এম এ করিম এবং ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান। স্বাগত বক্তব্য দেন বিটিএসের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. নাসরীন সুলতানা।

থাইরয়েড রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার আধুনিক পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা

দিনব্যাপী বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমে তিনটি অধিবেশনে থাইরয়েড রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার আধুনিক পদ্ধতি, থাইরয়েড ক্যানসারের অস্ত্রোপচার, গর্ভাবস্থায় থাইরয়েডের সমস্যা, আয়োডিনের ঘাটতি, থাইরয়েড-সম্পর্কিত চোখের রোগ এবং রোগী পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।

আলোচনায় অংশ নেন সোহরাওয়ার্দী ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জীনাত জাবীন, অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিমসহ অন্য বিশেষজ্ঞরা।

সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী জানান, বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত। তাঁদের মধ্যে ৫০ শতাংশ নারী। আক্রান্ত নারীদের ৬০ শতাংশই জানেন না যে তাঁদের থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ২ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, থাইরয়েড রোগের ক্ষেত্রে জনসচেতনতা এবং সময়মতো রোগ শনাক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও রোগ শনাক্ত না হওয়ায় চিকিৎসা নিতে দেরি হয়। এ কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক রোগ নির্ণয়ব্যবস্থা ও চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করা জরুরি।

গবেষণা উপস্থাপনা ও পুরস্কার বিতরণ

সম্মেলনের ফ্রি পেপার ও পোস্টার সেশনে ১২টি মৌখিক এবং ১০টি পোস্টার উপস্থাপনা করা হয়। এসব উপস্থাপনায় অনির্ণীত থাইরয়েড রোগ, থাইরয়েড অটোইমিউনিটি, রেডিওআয়োডিন চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, জিনগত বিশ্লেষণ এবং বিরল রোগের বিভিন্ন কেস নিয়ে আলোচনা হয়।

বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সেরা উপস্থাপকদের পুরস্কৃত করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, থাইরয়েড রোগ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো, নিয়মিত গবেষণা এবং চিকিৎসাসেবার পরিধি সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ রোগের ঝুঁকি কমানো ও আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাসময়ে চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব।