যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সিরিয়া ও লেবানন সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় আবারও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এসব হামলায় দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি গ্রাম ও সিরিয়া সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার গভীর রাতে ব্রিতাল এলাকার উপকণ্ঠে পাহাড়ি নবি স্রেইজ অঞ্চলে পাঁচ দফা বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। গত ১৭ এপ্রিলের পর এই এলাকায় এটিই প্রথম হামলার ঘটনা। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলের ইয়োহমর আল-শাকিফ এবং মারজাইউন জেলার তাইবেহ শহরেও বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবাননের তেবনিন হাসপাতালের কাছেও ইসরায়েলি হামলা হয়। এতে হাসপাতাল ভবনের তিনটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানিয়েছে লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। হামলায় জরুরি বিভাগ, নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট (আইসিইউ), অস্ত্রোপচার বিভাগ এবং হাসপাতালের সামনে থাকা অ্যাম্বুলেন্সগুলোও ক্ষতির মুখে পড়ে।
শুক্রবার রাত থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদরাই দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ রাহাল গ্রাম, টাইর এবং জকুক আল-মুফদি এলাকা খালি করার নির্দেশ দেন। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
টাইর শহর থেকে আল জাজিরা–এর প্রতিবেদক ওবাইদা হিত্তো জানান, তিনি ইসরায়েলের ঘোষিত ৫০০ মিটার ‘বিপদসীমা’র কাছাকাছি অবস্থান করছেন। সেখানে অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন রয়েছে। এলাকা ছাড়ার নির্দেশ পাওয়ার পর অনেক মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
তিনি বলেন, স্থানীয়দের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। কবে তারা আবার নিজ বাড়িতে ফিরতে পারবেন, তা কেউ জানেন না। অনেকেই এসব নির্দেশনাকে সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা জোরদার হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও হামলা থেমে নেই।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১২৩ জন চিকিৎসাকর্মী, ২১০ জনের বেশি শিশু এবং প্রায় ৩০০ জন নারী রয়েছেন।



