tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকতেলের দামে বড় অস্থিরতার আশঙ্কা- সিএনএন

তেলের দামে বড় অস্থিরতার আশঙ্কা- সিএনএন

বিশ্ববাজারে আবারও তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জ্বালানি বিশ্লেষকরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হলে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।

যদিও আপাতত বাজার পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে, তবু কৌশলগত তেলের মজুত কমে আসা, তেল শোধন সক্ষমতার সংকট এবং বিকল্প সরবরাহব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

রোববার প্রকাশিত সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল। সে সময় ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে এমন চাপ তৈরি হতে পারে, যা শুধু তেলের বাজার নয়, সামগ্রিক বিশ্ব অর্থনীতিকেও নড়িয়ে দিতে পারে। তবে সেই সমঝোতা টেকেনি এবং যুদ্ধবিরতিও ভেঙে যায়।

এর পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আবারও বিঘ্নিত হতে শুরু করে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তবুও এখন পর্যন্ত তেলের বাজারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি বা অস্থিরতা দেখা যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রধান কারণ যুদ্ধবিরতির সময় কয়েক সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছে যায়, ফলে তাৎক্ষণিক সরবরাহ সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়।

এ ছাড়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক চীন যুদ্ধ শুরুর আগেই বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মজুত করেছিল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অতিরিক্ত তেল কেনার চাপ এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। তবে এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বর্তমান বাজারের ভারসাম্য দ্রুত ভেঙে পড়তে পারে। তখন শুধু অপরিশোধিত তেলের দামই নয়, ডিজেল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন পরিশোধিত জ্বালানির দামেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

শুধু তেল নয়, সংকটে পরিশোধিত জ্বালানিও

বর্তমান সংকট শুধু অপরিশোধিত তেলেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহও চাপে পড়েছে। যুদ্ধ চলাকালে ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ৩০টি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থাপনা পুরোপুরি চালু হতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বেশ কয়েকটি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি প্রায় ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট ডিজেল রপ্তানির প্রায় ১২ শতাংশই সরবরাহ করত রাশিয়া।

এদিকে পরিবেশবান্ধব নীতি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চীনও তেল শোধন কার্যক্রমে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। ফলে ডিজেল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন পরিশোধিত জ্বালানির বৈশ্বিক সরবরাহ আরও চাপে পড়েছে।

এই ঘাটতি পূরণে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ সক্ষমতায় শোধনাগার পরিচালনা করলেও তীব্র গরম আবহাওয়া উৎপাদন কার্যক্রমকে আরও কঠিন করে তুলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন সক্ষমতা কতটা কার্যকর?

অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষে। দেশটি প্রতিদিন নিজেদের চাহিদার চেয়েও বেশি তেল উৎপাদন করে। তবে এই সক্ষমতা পুরো সংকট মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়।

কারণ যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তেলের বড় অংশ হালকা ধরনের, যা মূলত পেট্রোল উৎপাদনের জন্য উপযোগী। অন্যদিকে ডিজেল, জেট ফুয়েল এবং ভারী শিল্পে ব্যবহৃত জ্বালানি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন মধ্যপ্রাচ্যের ভারী অপরিশোধিত তেল। ফলে জ্বালানির এই খাতে যুক্তরাষ্ট্র এখনও আন্তর্জাতিক সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে

সিএনএনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক গোল্ডম্যানের মতে, এবার হরমুজ প্রণালিতে আগের মতো বিপুল পরিমাণ তেল আটকে নেই। ফলে প্রণালি খুলে গেলেও আগের মতো দ্রুত বড় সরবরাহ বিশ্ববাজারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম।

একই সঙ্গে নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে লোহিত সাগরেও। আগে সৌদি আরব পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পশ্চিম উপকূলে নিয়ে গিয়ে লোহিত সাগর হয়ে রপ্তানি করত। কিন্তু সেই বিকল্প পথও এখন নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে।

তবে বিশ্লেষকদের আশা, কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা গেলে বৈশ্বিক তেলবাজারে বড় ধরনের ধাক্কা এড়ানো সম্ভব হতে পারে।