ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করার প্রস্তাব দেওয়ার পেছনে দেশি-বিদেশি কোনো শক্তির ইন্ধন ছিল না বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেনের জেরার জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “দেশি-বিদেশি শক্তির ইন্ধনে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল”— এ অভিযোগ সত্য নয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার ৪৭তম সাক্ষী হিসেবে নাহিদ ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় আজ। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। এর মধ্যে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন।
জেরার জবাবে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ৩ আগস্ট সরকার পতনের এক দফা কর্মসূচি তাদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফল ছিল— এ ধারণাও সত্য নয়। একইভাবে তাদের আন্দোলনের পেছনে দেশি-বিদেশি কোনো শক্তির হাত ছিল বলেও তিনি অস্বীকার করেন।
এ সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হলে ট্রাইব্যুনাল বলেন, বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। এরপর নাহিদ ইসলাম বলেন, *“শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট পদত্যাগ করেননি”— এ কথাও সত্য নয়। আবার, “তিনি বাধ্য হয়ে ভারতে পালিয়ে যাননি”— এ অভিযোগও ভিত্তিহীন।
এর আগে জবানবন্দিতে নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তারা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগেই তাকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান। এর তিন দিন পর, ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।



