tanaka

অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ নয়, কর্মঘণ্টার পূর্ণ সদ্ব্যবহারের নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

আদালতের নির্ধারিত কর্মঘণ্টার পূর্ণ সদ্ব্যবহার এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ না করতে বিচারকদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। একই সঙ্গে...
প্রচ্ছদজাতীয়ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার নয়, ক্রীড়াবিদও হতে পারে স্বপ্নের পেশা: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার নয়, ক্রীড়াবিদও হতে পারে স্বপ্নের পেশা: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশে নতুন ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধ অবকাঠামোর চেয়ে দেশজুড়ে উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরি করতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সম্মেলনকক্ষে ক্রীড়া সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এ কথা জানান।

প্রাথমিক পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, উপজেলা থেকে সিটি করপোরেশন পর্যায় পর্যন্ত শিশু ও তরুণদের জন্য সহজলভ্য খোলা মাঠ তৈরি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “শিশুরা যেন কোনো বাধা ছাড়াই খেলতে পারে, এজন্য তৃণমূল পর্যায়ে আরও উন্মুক্ত মাঠ তৈরির দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। বকাঠামোকে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি না। মাঠের জন্য সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করতে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে ইতোমধ্যেই আলোচনা করেছি।”

ঢাকা শহরে খোলা মাঠের অভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের মধ্যে বহুমুখী মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে প্রবীণদের জন্য হাঁটার আলাদা পথও থাকবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পেয়েছেন। ক্রীড়াবিদদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের জন্য আনুষ্ঠানিক বেতন কাঠামো প্রণয়ন ও প্রক্রিয়া তৈরি হচ্ছে।

উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ক্রীড়াচর্চা কীভাবে সক্রিয় করা যায় এবং স্কুলে কোন কোন খেলা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, তা জানতে সাংবাদিকদের মতামতও নেন প্রতিমন্ত্রী। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণি থেকে ফুটবল ও ক্রিকেটসহ পাঁচটি খেলাকে বাধ্যতামূলক করা হবে এবং আরও তিনটি খেলার প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে। সাংবাদিকরা অ্যাথলেটিক্স, শুটিং, আর্চারি, হকি, মার্শাল আর্ট, টেবিল টেনিস ও ব্যাডমিন্টনের সুপারিশ করেন।

বছরজুড়ে ক্রীড়া কার্যক্রম সচল রাখতে মৌসুমভিত্তিক বার্ষিক ক্রীড়া ক্যালেন্ডার চালুর কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের ম্যাচগুলোকে জবাবদিহিমূলক কাঠামোর আওতায় আনা হবে। সাংবাদিকরা জেলা বাজেট বৃদ্ধি, ক্রীড়া সংস্থার সংস্কার, উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত ব্যয় পুনর্বিবেচনা এবং স্কুল মাঠ সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবিও তুলেন।

সভায় প্রতিমন্ত্রী ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য গবেষণা সেল গঠন এবং বাস্তবায়ন তদারকির জন্য মনিটরিং সেল তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “আজ আমরা যে পরামর্শগুলো পেয়েছি, সেগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। খেলাধুলার মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে গুণগত পরিবর্তন আনার জন্য আমরা সবাই মিলে কাজ করতে চাই।”

সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক আক্ষেপের সুরে বলেন, “প্রায় সব বাবা–মা চান তাদের সন্তান ডাক্তার, প্রকৌশলী বা ব্যারিস্টার হোক, কিন্তু খুব কম মানুষ চান সন্তান ক্রীড়াবিদ হোক। আমি সেই মানসিকতা বদলাতে চাই এবং এমন একটি আন্দোলন শুরু করতে চাই, যাতে প্রতিটি পরিবার তাদের সন্তানকে একজন প্রতিষ্ঠিত পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে দেখার স্বপ্ন দেখতে পারে।”