tanaka

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা

দেশের বাজারে আবারও কমেছে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকট্রাম্পের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে বাড়ছে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা

ট্রাম্পের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে বাড়ছে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’–এ এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “যেহেতু অন্যান্য দেশও তাদের নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি চালাচ্ছে, তাই আমি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বিভাগকে (সাবেক প্রতিরক্ষা দপ্তর) সমতার ভিত্তিতে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছি।”

তিনি আরও জানান, এই পরীক্ষাগুলো অবিলম্বে শুরু করা হবে এবং কোথায় তা অনুষ্ঠিত হবে— সে তথ্য পরে জানানো হবে।

অস্পষ্টতা ও উদ্বেগ

ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর হোয়াইট হাউস এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে এটি স্পষ্ট নয়— প্রেসিডেন্ট কি পারমাণবিক অস্ত্রের সরবরাহ ব্যবস্থা (যেমন ক্ষেপণাস্ত্র) পরীক্ষা বোঝাতে চেয়েছেন, নাকি সরাসরি বিস্ফোরণমূলক পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর কথা বলেছেন।

১৯৯০–এর দশকের পর থেকে শুধু উত্তর কোরিয়াই পারমাণবিক অস্ত্রের বাস্তব পরীক্ষা চালিয়েছে— সর্বশেষ ২০১৭ সালে।

বিশেষজ্ঞদের মত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ঘোষণা বিশ্বকে নতুন এক পারমাণবিক প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস–এর ফেলো জেমি ওয়াং বলেন, “উত্তর কোরিয়া ছাড়া অন্য কোনো দেশ কয়েক দশক ধরে পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণা অন্য দেশগুলোকে একই পথে হাঁটতে উৎসাহিত করতে পারে।”

তার মতে, “এটি এক উদ্বেগজনক সময়— যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন এমন এক পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যা ভবিষ্যতে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতায় রূপ নিতে পারে।”

লন্ডনভিত্তিক থিংক ট্যাংক ‘রুসি’–র সিনিয়র ফেলো দারিয়া দোলঝিকোভা মনে করেন, “ট্রাম্পের এই ঘোষণা হয়তো তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনবে না, কিন্তু বৈশ্বিক পারমাণবিক উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সামান্য উসকানিতেও সংঘাতের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।”

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়ার পারমাণবিক হুমকি, ভারত–পাকিস্তান ও ইরান–ইসরায়েল সংঘাত, এবং তাইওয়ানকে ঘিরে উত্তেজনা— সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক ঝুঁকি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদও আগামী ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)–এর তথ্য অনুযায়ী—

রাশিয়ার কাছে ৫,৪৫৯টি, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৫,১৭৭টি, এবং চীনের কাছে প্রায় ৬০০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।

রাশিয়া সম্প্রতি নতুন পারমাণবিক অস্ত্র সরবরাহ ব্যবস্থার পরীক্ষা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম এবং কিছু ক্ষেপণাস্ত্র সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে পৌঁছাতে পারে।

চীনের প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ

মার্কিন ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় চীন জানিয়েছে, তারা আশা করে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তির শর্ত মেনে চলবে এবং পরীক্ষা স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশন–এর নির্বাহী পরিচালক ড্যারিল ক্যাম্পবেল বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরু করা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক ভুল হবে।”

তার মতে, “যতদিন না যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া নতুন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় বসছে, ততদিন আমরা চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিপজ্জনক ত্রিমুখী অস্ত্র প্রতিযোগিতার মুখে থাকব।”

ফেডারেশন অফ আমেরিকান সায়েন্টিস্টস–এর পারমাণবিক তথ্য পরিচালক হ্যান্স ক্রিস্টেনসেনের মন্তব্য— “গত পাঁচ বছরে পারমাণবিক অস্ত্রের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এটি সাধারণ মানুষের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ।”

ইতিহাস ও প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ ১৯৯২ সালে নেভাডা অঙ্গরাজ্যে ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়। বিশ্লেষকদের মতে, সেই স্থান পুনরায় প্রস্তুত করতে অন্তত তিন বছর সময় লাগবে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র কম্পিউটার সিমুলেশন ও অ-বিস্ফোরক প্রযুক্তির মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে। ফলে নতুন বিস্ফোরণমূলক পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা নেই বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

‘দ্য হেরিটেজ ফাউন্ডেশন’–এর রিসার্চ ফেলো রবার্ট পিটার্স বলেন, “বৈজ্ঞানিকভাবে হয়তো এর প্রয়োজন নেই, তবে রাজনৈতিক বার্তা পাঠাতে অনেক সময় এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।”

তিনি আরও বলেন, “একজন প্রেসিডেন্টের জন্য শক্তি প্রদর্শন কখনও কখনও কৌশলগত প্রয়োজন হয়ে ওঠে— তা ডোনাল্ড ট্রাম্প হোন বা অন্য কেউ।”

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪৫ সালে প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় এবং একই বছর জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বোমা হামলা করে— যা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ পারমাণবিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত।