tanaka

ভরিতে সোনার দাম বাড়লো ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকজেন-জিদের ‘ককরোচ’ বিদ্রোহে কাঁপছে ভারতীয় রাজনীতি

জেন-জিদের ‘ককরোচ’ বিদ্রোহে কাঁপছে ভারতীয় রাজনীতি

ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। প্রথমদিকে এটিকে অনেকেই বিজেপিবিরোধী তরুণদের অনলাইন বিদ্রোহ হিসেবে দেখলেও, বিশ্লেষকদের মতে এটি কেবল কোনো একক দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ নয়; বরং গোটা রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি তরুণ প্রজন্মের হতাশার বহিঃপ্রকাশ।

শুক্রবার (২২ মে) এনডিটিভির এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

সম্প্রতি ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ ওঠে, তিনি বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। যদিও পরে তিনি দাবি করেন, মন্তব্যটি তরুণদের উদ্দেশে নয়; বরং ভুয়া ডিগ্রিধারীদের প্রসঙ্গে করা হয়েছিল। তবে এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আত্মপ্রকাশ করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে তাদের অনুসারীর সংখ্যা কয়েক মিলিয়নে পৌঁছে যায়। এমনকি একপর্যায়ে বিজেপির অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজের অনুসারীর সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যায় তারা। পরে অবশ্য ভারতে সিজেপির এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হয়।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপের ভাষ্য, ভারতের তরুণরা মূলধারার রাজনৈতিক আলোচনায় কার্যত অদৃশ্য হয়ে গেছে। বস্টনভিত্তিক এই অনলাইন আন্দোলন নিজেদের ‘অলস’ ও ‘বেকার’ বলে আখ্যায়িত তরুণদের কণ্ঠস্বর হিসেবে তুলে ধরছে। তাদের স্লোগান— “ওরা আমাদের পিষে ফেলতে চেয়েছিল, আমরা আবার ফিরে এসেছি।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যঙ্গাত্মক বার্তাই তরুণদের হতাশা, ক্ষোভ ও বঞ্চনার অনুভূতিকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে। চাকরির সংকট, মূল্যস্ফীতি, পরীক্ষা দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক বংশবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এখন মিম, ব্যঙ্গ এবং সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্টের মাধ্যমে বিস্ফোরিত হচ্ছে।

কংগ্রেস নেতা উমাং সিংঘার ও সাংসদ শশী থারুর সিজেপির উত্থানকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বিরোধী দলগুলোর জন্যও এটি সতর্কবার্তা। কারণ তরুণ ভোটারদের একাংশ শুধু বিজেপিবিরোধী বক্তব্যে আর সন্তুষ্ট নয়।

নির্বাচনী কৌশলবিদ নরেশ অরোরা মন্তব্য করেছেন, সিজেপির জনপ্রিয়তা শাসকদলের বিরুদ্ধে ক্ষোভের পাশাপাশি বিরোধী রাজনীতির প্রতিও তরুণদের হতাশা প্রকাশ করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের তরুণ ভোটাররা এখন চাকরি, স্বচ্ছ নিয়োগ, সাশ্রয়ী জীবনযাপন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং পরিবারতন্ত্রমুক্ত রাজনীতি দেখতে চায়।

এমন সময়েই সিজেপির জনপ্রিয়তা বাড়ছে, যখন ভারতের জেন-জি প্রজন্ম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ডেলয়েটের এক জরিপ অনুযায়ী, চাকরির সংকট ও মূল্যস্ফীতির কারণে বহু তরুণ বাড়ি কেনা কিংবা বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও পিছিয়ে দিচ্ছেন।

এদিকে, তামিলনাড়ুতে অভিনেতা বিজয়ের দল টিভিকের উত্থানকেও একই প্রবণতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটাররা এখন নতুন মুখ, সরাসরি যোগাযোগ এবং প্রচলিত রাজনীতির বাইরে বিকল্প প্ল্যাটফর্ম খুঁজছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তরুণদের রাজনৈতিক মনোযোগ এখন আর প্রচলিত সংবাদ সম্মেলন বা টিভি বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই। বরং ইউটিউব শো, ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও, মিম এবং সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্টই হয়ে উঠছে নতুন রাজনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্র।

কমেডিয়ান কুনাল কামরা, বরুণ গ্রোভার কিংবা ‘আনফিল্টার্ড বাই সমদীশ’-এর মতো প্ল্যাটফর্ম তরুণদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সিজেপির সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো— তারা অপমানকে প্রতিবাদে এবং ব্যঙ্গকে রাজনৈতিক ভাষায় রূপ দিতে সক্ষম হয়েছে।

‘তেলাপোকা’ শব্দটিকেই তারা প্রতিরোধের প্রতীকে পরিণত করেছে। যাদের ‘অলস’ বলা হচ্ছিল, তারাই এখন সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে সক্রিয় সংগঠক; যাদের ‘বেকার’ বলা হচ্ছিল, তারাই এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

পর্যবেক্ষকদের মতে, সিজেপি বাস্তবে রাজনৈতিক দলে পরিণত হোক বা না হোক, এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে— ভারতের তরুণ প্রজন্ম আর পুরনো ধাঁচের রাজনীতিতে সন্তুষ্ট নয়।