tanaka

ভরিতে সোনার দাম বাড়লো ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে...
প্রচ্ছদসর্বশেষ সংবাদঅর্থনীতিজুনে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি, তবু বিদায়ী অর্থবছরে রপ্তানি আয় কমে ৪৮ বিলিয়ন ডলার

জুনে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি, তবু বিদায়ী অর্থবছরে রপ্তানি আয় কমে ৪৮ বিলিয়ন ডলার

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয় সামান্য কমে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় রপ্তানি আয় কমেছে ০.৫৮ শতাংশ। যদিও অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রপ্তানি খাতে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন দেখা গেছে, তবে পুরো বছরের দুর্বল পারফরম্যান্স কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। অর্থবছরের ১২ মাসের মধ্যে মাত্র দুই মাসে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি এসেছে, বাকি ১০ মাসেই ছিল নিম্নমুখী ধারা।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ৪৮.২৮ বিলিয়ন ডলার। অথচ সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫ বিলিয়ন ডলার। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার কম রপ্তানি আয় হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাকের চাহিদা হ্রাস, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বিভিন্ন অঞ্চলের চলমান যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রভাবে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি খাত চাপের মুখে পড়ে। এর ফলে তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমে যাওয়ায় সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশল এবং হিমায়িত খাদ্যপণ্যের রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

অর্থবছরের শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক। জুলাই মাসে প্রায় ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও পরবর্তী কয়েক মাসে রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। টানা আট মাস নিম্নমুখী থাকার পর এপ্রিল মাসে প্রায় ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা যায়। তবে এরপর আবার দুই মাস রপ্তানি কমে যায়। পুরো অর্থবছরে মাত্র চার মাসে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি হয়েছে, বাকি মাসগুলোতে রপ্তানি ছিল ৩ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩৮.৭০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ৩৯.৩৫ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১.৬৪ শতাংশ কম। তবে জুন মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ২.৭৮ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২১.৫ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানিতে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ১.২৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ১.১৫ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ বেশি। জুন মাসে এ খাতের রপ্তানি হয়েছে ৮ কোটি ৭২ লাখ ডলার।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম দুই প্রধান উৎস হলো পণ্য রপ্তানি ও প্রবাসী আয়। বিদায়ী অর্থবছরে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি। একই সময়ে পণ্য আমদানি তুলনামূলক কম থাকায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (বিপিএম-৬) হিসাব অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩১.৫৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে রপ্তানি আয় আরও বেশি হলে রিজার্ভের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারত।

অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রপ্তানি খাত ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ ৪২০ কোটি ২৬ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের একই মাসের ৩৩৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলারের তুলনায় ২৫.৯১ শতাংশ বেশি। এক মাসের এই শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি নতুন অর্থবছরের জন্য আশাব্যঞ্জক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রপ্তানি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জুন মাসের ইতিবাচক প্রবণতা ধরে রাখা গেলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভালো ফল অর্জন সম্ভব। তবে বৈশ্বিক বাজারে দুর্বল চাহিদা, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি প্রতিযোগিতার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই রপ্তানি খাতকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে আনতে হবে।

পোশাক রপ্তানিকারকদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কনীতির কারণে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাজার যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি চাপে পড়ে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় বাজারেও প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি যুক্ত হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে এবং তৈরি পোশাক রপ্তানি আরও কমে গেছে। এর প্রভাবে অনেক কারখানা উৎপাদন কমিয়েছে, কিছু কারখানা বন্ধ হয়েছে এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনাও বেড়েছে।

এদিকে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৫৮ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়া, ক্রেতাদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত মূল্য না পাওয়া, উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং দীর্ঘদিনের লোকসানের কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে অথবা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তার মতে, এই পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়ের ওপর স্পষ্টভাবেই প্রতিফলিত হয়েছে।