দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নিয়মনীতি ও বিধিবিধানের সংস্কার-আধুনিকায়ন জরুরি। প্রয়োজনে বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান একীভূত করে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা যেতে পারে। পাশাপাশি জমি, ইউটিলিটি, কাস্টমস, অর্থ লেনদেন, শ্রমিক, পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স ও সার্টিফিকেশনেও সংস্কার প্রয়োজন।
জাগো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ সংবাদদাতা ইব্রাহীম হুসাইন অভি।
সম্প্রতি বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?
মূলত তিনটি প্রতিষ্ঠান- বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ একীভূত করে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে আলাদাভাবে সেবা নেওয়ার যে ‘মাল্টি-স্টপ’ ব্যবস্থা আছে, সেটি কমিয়ে আনা। অর্থাৎ, বিনিয়োগকারীদের যেসব কাজ আগে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে করতে হতো, সেগুলো এক জায়গায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে প্রশ্ন হলো, শুধু প্রতিষ্ঠান একীভূত করলেই কি বাংলাদেশে এফডিআই বা বিনিয়োগ আসবে? আমার উত্তর- না।
কারণ একজন বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে গেলে শুধু নিবন্ধন বা অনুমোদনের বিষয়টিই দেখে না। বিনিয়োগের পথে আরও অনেক বাধা রয়েছে। যেমন কাস্টমসের প্রক্রিয়া, অর্থ বা তহবিল আনা-নেওয়ার নিয়ম, শ্রমিক সংগ্রহ, জমি পাওয়া, ইউটিলিটি সার্ভিস, রেডি-টু-ইনভেস্ট জমি, পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স এবং বিভিন্ন সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থা। ব্যবসা শুরু করা ও চালু রাখার জন্য এসব প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিনিয়োগকারীকে যুক্ত হতে হয়।
এই জায়গাগুলোতে সংস্কার না হলে এবং এসব সেবা নিতে একজন বিনিয়োগকারীকে যদি ৫০টি জায়গায় যেতে হয়, তাহলে শুধু তিনটি প্রতিষ্ঠানকে এক জায়গায় এনে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব হবে না। এসব সেবা একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আনতে হবে এবং ডিজিটালাইজ করতে হবে।



