জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় দাফনের প্রায় সাত ঘণ্টা পর এক নারী জীবিত আছেন—এমন দাবির পর তাঁর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করেন স্বজনরা। পরে হাসপাতালে নিয়ে ইসিজি (ECG) পরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, তিনি মৃত। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার রাত প্রায় ১২টার দিকে উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মৃত নারীর নাম হালিমা খাতুন (৫৫)। তিনি একই এলাকার সোহরাব আকন্দের স্ত্রী। তাঁদের এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। শনিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে দুপুরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতে হালিমা খাতুনের মেয়ে পরিবারের সদস্যদের জানান, ‘জিন’ তাকে বলেছে তাঁর মা এখনো জীবিত আছেন। এ দাবির পর পরিবারের সদস্যরা কবর খুঁড়ে মরদেহ উত্তোলন করেন।
পরে মরদেহটি অ্যাম্বুলেন্সে করে প্রথমে মেলান্দহ উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর জামালপুর পৌর শহরের আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে ইসিজি পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, হালিমা খাতুনের মৃত্যু হয়েছে।
এরপর স্বজনরা মরদেহটি বাড়িতে নিয়ে যান এবং রাতেই একই কবরস্থানে পুনরায় দাফন করেন।
এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক গণমাধ্যমকে জানান, স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী মৃত নারীর মেয়েকে ‘জিনে ধরেছে’ এবং সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি এমন দাবি করেন বলে এলাকায় প্রচার রয়েছে। তবে এ দাবির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, কবরে জীবিত থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব এবং এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে।



