জামায়াতে ইসলামী সুস্থ রাজনীতির চর্চা করে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, একটি পত্রিকায় প্রকাশিত বক্তব্যে জামায়াতের আমীর দাবি করেছেন, বিএনপি ‘ইঞ্জিনিয়ারিং করে’ ক্ষমতায় এসেছে—যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, এ ধরনের মন্তব্য প্রমাণ করে যে দলটি বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সুস্থভাবে চিন্তা করে না।
তিনি আরও বলেন, দেশের নির্বাচন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের কাছে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। জনগণের সমর্থন নিয়েই বিএনপি ২১৩টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেছে। তাই এ ধরনের বক্তব্য শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, তা বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা।
বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ও বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাদের লক্ষ্য গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বর্তমান প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করা এবং দেশে অস্থিরতা তৈরি করা। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আবারও স্বৈরাচারী শাসনের পথ তৈরি করার চেষ্টা হতে পারে।
জামায়াতের অতীত ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জনগণ সচেতনভাবেই দলটিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ভবিষ্যতেও রাজনৈতিকভাবে তাদের মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আগামী মহান মে দিবস উপলক্ষে বিএনপির শ্রমিক সমাবেশ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ১ মে দুপুর ২টায় ঢাকায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। সমাবেশ সফল করতে দলীয়ভাবে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে দেশবাসীকে যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালনের আহ্বান জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে থেকেই একটি গোষ্ঠী মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের মাধ্যমে বিএনপিকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। কিন্তু তারা এতে সফল হয়নি। এখনও বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



