tanaka

মেরুল বাড্ডায় রাজউকের দেড় হাজার কোটি টাকার জমি ২১ বছর ধরে দখলে

রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় রাজউকের প্রায় ১১ একর জমি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জমিটির বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। একই জমিকে ঘিরে প্রায় ছয় হাজার মানুষের কাছ থেকে ৩০০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
প্রচ্ছদজাতীয়‘জাতীয় নির্বাচনে ৭০ শতাংশ ভোটারের পছন্দ বিএনপি’

‘জাতীয় নির্বাচনে ৭০ শতাংশ ভোটারের পছন্দ বিএনপি’

এমিনেন্সের জনমত জরিপ: জাতীয় নির্বাচনে ৭০ শতাংশ ভোটারের পছন্দ বিএনপিত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশব্যাপী পরিচালিত এক জনমত জরিপের ফল প্রকাশ করেছে এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (EASD)। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জরিপের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।

জরিপে দেখা গেছে, দেশের অধিকাংশ ভোটারের প্রথম পছন্দ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অংশগ্রহণকারী ভোটারদের মধ্যে ৭০ শতাংশই বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ১৯ শতাংশ সমর্থন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ২.৬ শতাংশ, জাতীয় পার্টি ১.৪ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ০.১ শতাংশ সমর্থন।

দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসন থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মোট ২০ হাজার ৪৯৫ জন উত্তরদাতার মতামত নিয়ে এই জরিপ পরিচালিত হয়। ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ১২০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তথ্যসংগ্রাহক মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ পুরুষ এবং ২৫ শতাংশ নারী।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের অংশগ্রহণ ছিল ২৭ শতাংশ এবং ৩১ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের অংশগ্রহণ ৫০ শতাংশ। গবেষকদের মতে, তরুণ সমাজের এই অংশগ্রহণ দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনে তাদের সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিত দেয়। নারী ভোটারদের মধ্যেও বিএনপির জনপ্রিয়তা সর্বোচ্চ, যেখানে ৭১ শতাংশ নারী দলটিকে সমর্থন জানিয়েছেন।

আঞ্চলিক বিশ্লেষণে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে বিএনপির প্রতি সর্বোচ্চ ৭৪ শতাংশ সমর্থন পাওয়া গেছে। তবে বরিশাল ও খুলনা বিভাগে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী, যেখানে দলটির সমর্থন যথাক্রমে ২৯ শতাংশ ও ২৫ শতাংশ। এছাড়া রংপুর অঞ্চলে জাতীয় পার্টি ৫.২ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেয়েছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারী ৭৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের বর্তমান রাজনৈতিক ঝোঁক নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। অতীতে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যে ৬০ শতাংশ আসন্ন নির্বাচনে বিএনপিকে এবং ২৫ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বাকি ১৫ শতাংশ অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।

পেশাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উত্তরদাতাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৪ শতাংশ ছিলেন ব্যবসায়ী এবং ১৫ শতাংশ কৃষি ও গ্রামীণ শ্রমজীবী খাতের মানুষ।

গবেষকরা জানান, জরিপকালীন সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘটে যাওয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগঘন ঘটনা ভোটারদের মানসিকতায় প্রভাব ফেলতে পারে। এর মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদীর মৃত্যু, বিভিন্ন রাজনৈতিক জোট গঠন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখযোগ্য।

গবেষকদের মতে, এসব সমসাময়িক ঘটনা অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের সিদ্ধান্তে যুক্তির পাশাপাশি আবেগের প্রতিফলন ঘটাতে পারে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্যানেলিস্টরা এই জনমত জরিপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেন। মীর নাদিয়া নিভিন নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর একে সুশাসনের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন। ফাহিম মাশরুর তরুণদের এই রায়কে বাকস্বাধীনতার প্রত্যাশা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন এবং ইফতেখার মাহমুদ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ডা. কাজী সাইফউদ্দীন বেননূর আশা প্রকাশ করেন, এই জনআকাঙ্ক্ষা আগামী দিনে একটি স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথ সুগম করবে।