জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল–জেএসডির ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা নির্বাচন করব এবং নির্বাচন করতে চাই। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা যে ঘোষণাটি দিয়েছেন, আমরা সেই ঘোষণার সঙ্গে একমত হয়ে নির্বাচন চাই। কিন্তু এখন একটি মহল এই নির্বাচনকে বানচাল ও বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে। বিভিন্নভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তবে আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—নির্বাচনের আগে গণভোটের কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের দিনই গণভোট হবে। দুটি ব্যালট থাকবে—একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য, অন্যটি গণভোটের জন্য।”
গণভোটের দাবিতে আন্দোলনরত দলগুলোর উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “যারা এই ইস্যুতে রাস্তায় নেমেছেন, তাদের অনুরোধ করব—দয়া করে জনগণকে আর বিভ্রান্ত করবেন না। অতীতে আপনারা অনেক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন। একসময় যখন সমগ্র জাতির দাবি ছিল স্বাধীনতা, তখনও আপনারা (জামায়াতে ইসলামী) তার বিরোধিতা করেছিলেন। আজও যেন জনগণের প্রত্যাশিত নির্বাচনের বিরোধিতা না করেন। এই দেশের মানুষ কখনো বিশ্বাসঘাতকদের ক্ষমা করে না।”
তিনি আরও বলেন, “জামায়াতসহ আন্দোলনরত দলগুলোকে বলব—এখান থেকে সরে এসে নির্বাচনে অংশ নিন। নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের মতামত ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হোক—এটাই আমাদের কাম্য। এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ নির্বাচনের মাধ্যমেই সম্ভব।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা আমাদের মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করতে চাই, যাদের সঙ্গে গত ১৭ বছর ধরে আমরা লড়াই-সংগ্রাম করেছি। নির্বাচনের পর আমরা একটি জাতীয় সরকার গঠনের পক্ষে। আসুন, সবাই মিলে সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের সংসদ ও সরকার গড়ে তুলি।”
এ সময় তিনি অসুস্থ জেএসডি সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আসম আবদুর রবের আশু সুস্থতা কামনা করেন।
বিএনপির বিরুদ্ধে ‘সংস্কারবিরোধী’ অভিযোগ নাকচ করে ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশে যত সংস্কার হয়েছে, তার সবই বিএনপির হাত ধরে। আমরা ৩১ দফা সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। আমরা এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল যে সংস্কারগুলোতে একমত হয়েছি, ক্ষমতায় এলে সেগুলো বাস্তবায়ন করব। যেগুলো এখনো হয়নি, সেগুলো আমাদের ইশতেহারে স্থান পাবে।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রব, যিনি অসুস্থ আসম আবদুর রবের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, ভাসানী জনশক্তি পার্টির শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু ও জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বক্তব্য রাখেন।



