tanaka

মুয়াজ্জিন থেকে ঢাকাই সিনেমার খলনায়ক ডন

একসময় মসজিদে নিয়মিত আজান দিতেন আশরাফুল হক ডন। নব্বইয়ের দশকে ঢাকাই চলচ্চিত্রে পা রাখার পর নানা আলোচিত চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান খলনায়ক হিসেবে।...
প্রচ্ছদসারাদেশজমি বিক্রি না করায় সামনে উঁচু প্রাচীর, মই বেয়ে যাতায়াত বৃদ্ধ দম্পতির

জমি বিক্রি না করায় সামনে উঁচু প্রাচীর, মই বেয়ে যাতায়াত বৃদ্ধ দম্পতির

বসতভিটা বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় সাভারে এক প্রবীণ দম্পতির বাড়ির প্রবেশপথে উঁচু প্রাচীর তুলে যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। বাধ্য হয়ে প্রতিদিন মই বেয়ে প্রতিবেশীর ছাদে উঠে সেখান থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামতে হচ্ছে ওই দম্পতিকে।

ঘটনাটি ঘটেছে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের রাজফুলবাড়িয়ার নগরচর এলাকায়। ভুক্তভোগী দম্পতি হলেন ঝালকাঠি সদরের মানপয়সা গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক বেসরকারি চাকরিজীবী আনিসুর রহমান এবং তার স্ত্রী রাশিদা বেগম। ১৯৯৫ সালে সাভারে সোয়া চার শতাংশ জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন তারা।

‘বাড়ি বিক্রি না করায় মামলা, পরে প্রাচীর’

আনিসুর রহমানের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী তাদের বসতভিটার জমি নিজেদের দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রথমে বাড়িটি কিনে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা করা হয়।

তিনি বলেন, এতেও কাজ না হওয়ায় বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে কারাগারের মতো উঁচু প্রাচীর নির্মাণ করে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যের কাছে বিষয়টি জানালেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন আনিসুর রহমান।

‘মই বেয়ে চলাচল করতে হয়’

দুর্ভোগের কথা জানাতে গিয়ে রাশিদা বেগম বলেন, “এই বাড়ি বিক্রি করলে আমরা থাকব কোথায়? আমার স্বামী বয়স্ক মানুষ, আমারও বয়স হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে আমাদের মই বেয়ে অন্যের ছাদে উঠে তারপর সিঁড়ি বেয়ে নামতে হয়।”

প্রতিবেশীরা সহযোগিতা না করলে তাদের কার্যত বাড়ির ভেতরেই বন্দি হয়ে থাকতে হতো বলেও জানান তিনি।

প্রশাসনের তদন্তে সরকারি জমি দখলের তথ্য

পরবর্তীতে ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন আনিসুর রহমান। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্ত করা হয়।

ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব বিভাগের ডেপুটি কালেক্টর শরীফ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন সরেজমিন তদন্ত করেন। তিনি জানান, আনিসুর রহমানের বাড়ির সামনে প্রাচীর নির্মাণকারীদের কয়েকজন নিজেরাও সরকারি খাসজমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে বসবাস করছেন।

তদন্তের পর মো. ইব্রাহিম, আসলাম, ইছমত আরা ও রমজান আলীকে সাত দিনের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নোটিশ দেয় জেলা প্রশাসনের কার্যালয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা স্থাপনা সরিয়ে নেয়নি। রোববার ছিল নোটিশের শেষ দিন।

‘নিজেরা না সরালে উচ্ছেদ’

ঢাকার জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, অবৈধ দখলদাররা নিজেদের স্থাপনা সরিয়ে না নিলে প্রশাসনের উদ্যোগে সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

প্রশাসনের এই উদ্যোগে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তির আশা করছেন ভুক্তভোগী প্রবীণ দম্পতি।