দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাতে তিন মাদ্রাসাছাত্রসহ অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জন কৃষক রয়েছেন। রোববার (২১ জুন) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, নেত্রকোণা, জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলায় পৃথক ঘটনায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে নরসিংদীর মনোহরদীতে। মাগরিবের নামাজের আগে অজু করার সময় বজ্রপাতে তিন মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয় এবং আরও একজন গুরুতর আহত হয়। নিহতরা হলেন জহিরুল হক (১৫), আবু রায়হান (১৪) ও আবু জাফর (১৫)। তারা কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং পাঁচকান্দি মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।
শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোসতানশির বিল্লাহ জানান, বজ্রাহত চার শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হলে তিনজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং একজন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারান কৃষক মুসা ফকির (৬০)। বিকেলে উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের উত্তর চরবওলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার বড়গাঁও গ্রামে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান জাহাঙ্গীর আলম (৩৫)। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতের পরিবারকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
ঢাকার সাভার উপজেলার বনগাঁও ইউনিয়নের কোন্ডা এলাকায় কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতে তিন শ্রমজীবী মানুষের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন দ্বীন ইসলাম (৪৫) ও দুলাল (৬০)। অপর একজনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিকেলে ফসলি জমিতে কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যান। গুরুতর আহত দ্বীন ইসলামকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার উলাবাইরা চর হাওর এলাকায় বজ্রপাতে বাবুল সরকার (৪৫) নামে এক নৌকার মাঝির মৃত্যু হয়েছে। আশুগঞ্জ থেকে ধান বিক্রি করে ফেরার পথে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে নৌকা চালানোর সময় তিনি বজ্রাঘাতে নিহত হন। নৌকায় থাকা অন্য যাত্রীরা পরে তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান।
এদিকে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার কাঞ্চননগর গ্রামে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন কবির হোসেন (৩০) ও শহিদুল ইসলাম (২৫)। বিকেলে মাঠে কৃষিকাজ করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তারা আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঝড়-বৃষ্টির সময় খোলা মাঠ, জলাশয় ও উঁচু স্থানে অবস্থান না করার পাশাপাশি নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।



