চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মদুনাঘাট এলাকায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) দুটি বাস আটকে শিক্ষার্থীদের হেনস্তা ও বাসে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা। একই দিন নগরের বহদ্দারহাট এলাকায়ও শিক্ষার্থী বহনকারী একটি বাসে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে মদুনাঘাট এলাকায় প্রথম ঘটনা ঘটে। এতে বাস দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে না পেরে ফিরে যায় বলে জানা গেছে।
শিক্ষার্থীকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ
চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমিরুল কুদ্দুস জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান আন্দোলনে যোগ দিতে তিনি চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট এলাকা থেকে একটি বাসে ওঠেন। পথে মদুনাঘাট এলাকায় বাসটি থামানো হলে পরিস্থিতি দেখতে তিনি নিচে নামেন।
আমিরুলের অভিযোগ, এ সময় কাউকে ফোন করার জন্য মোবাইল বের করলে একদল লোক তাঁকে ঘিরে ধরে। পরে তাঁকে হেনস্তা করার পাশাপাশি জামাকাপড় ধরে টানাটানি ও চুল ধরে টেনে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ ও শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে তাঁকে মারধর করা হয়েছে। পরে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি এগিয়ে এসে তাঁকে সহযোগিতা করেন এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।
এদিকে, মদুনাঘাট এলাকায় চুয়েটগামী দুটি বাস আটকে রাখার পাশাপাশি ভাঙচুর চালানোর অভিযোগও উঠেছে। তবে বাস দুটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এসব ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জড়িত ছিলেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষকদের নিন্দা, প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা
শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগের নিন্দা জানিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষকরা মৌন মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তন থেকে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে যান। সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক সমাবেশে অংশ নেন তাঁরা।
সমাবেশে শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর মদুনাঘাটে ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী—তিন সমিতির পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা জানাই।”
এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীরা।
চুয়েটে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন চলছে
চুয়েটে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার মধ্যেই এসব ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁকে দুপুর ১২টার মধ্যে প্রশাসনিক ভবন ছেড়ে যাওয়ার আলটিমেটাম দেন।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপাচার্য ভবন ত্যাগ না করায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন এবং উপাচার্যের ভবনে তালা লাগিয়ে দেন।
চুয়েটে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও বাস ভাঙচুরের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।



