যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাণিজ্য বিরোধ মেটাতে নিজেই বিরলভাবে চীনে সফর করবেন। তবে তার মূল লক্ষ্য চীনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা, যা ইরান বর্তমানে বন্ধ রেখেছে। এই নৌপথ বন্ধ থাকায় বিশ্বের তেলের এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, যা জ্বালানি দামের উর্ধ্বগতি এবং অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি করছে।
ট্রাম্প ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলিকে এই প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। চীনের সহায়তা নিশ্চিত করতে তিনি অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করছেন। ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’-কে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার শীর্ষ সম্মেলনের আগে চীনের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইবেন, অন্যথায় সফর স্থগিত করতে পারেন।
ট্রাম্পের এই অনুরোধ নজিরবিহীন—তিনি চীনের কাছে এমন একটি যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য বলছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। তবে চীন দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সংকট মোকাবিলার জন্য নিজেকে তুলনামূলকভাবে প্রস্তুত করেছে। তারা অপরিশোধিত তেলের মজুদ বাড়িয়েছে, আমদানির বৈচিত্র্য এনেছে এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বড় বিনিয়োগ করেছে।
বিশ্বজুড়ে এই সংঘাত চীনে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় দেখা হচ্ছে। বেইজিং-ভিত্তিক গবেষক হেনরি হুইয়াও ওয়াং বলেন, “ট্রাম্প বর্তমানে একাকী, বিশ্ব তাকে সমর্থন করছে না, এবং তিনি একটি কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছেন।” চীনা রাষ্ট্রমাধ্যম বৃহত্তর সহযোগিতার আহ্বান জানালেও ‘গ্লোবাল টাইমস’ হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ধারণা নিন্দা করেছে।
চীনের কূটনৈতিক স্বার্থও রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে সরাসরি পদক্ষেপ নাও নিলেও দেশটি স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং অঞ্চলে প্রভাব দেখাতে চায়। সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জা ইয়ান চং বলেন, “চীন চায় তাদের অর্থনীতি সচল থাকুক এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক।”
ট্রাম্পের চীনা সফর এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা বিশ্ব অর্থনীতি ও মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির ওপর প্রভাব ফেলবে।
সূত্র: সিএনএন।



