আগামী সপ্তাহে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিতব্য সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নিতে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এবং স্বাগতিক চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই যৌথ উপস্থিতিকে পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি একটি প্রতীকী চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে—বিশেষত বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, ৩ সেপ্টেম্বর ‘ভিক্টরি ডে’ উপলক্ষে আয়োজিত কুচকাওয়াজে ২৬টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান উপস্থিত থাকবেন। তবে পশ্চিমা বিশ্বের কোনো শীর্ষ নেতা এ আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন না। কেবলমাত্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর উপস্থিতির কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কুচকাওয়াজের মাধ্যমে চীন একদিকে তার আধুনিক সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ঘনিষ্ঠতার বার্তা দিতে চায়।
রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে একাধিক পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়া ২০০৬ সাল থেকে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে।
চীনের কৌশলগত অংশীদার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন সর্বশেষ ২০২৪ সালে চীন সফর করেন। আর উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন সর্বশেষ ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে বেইজিং সফর করেছিলেন।
এবারের কুচকাওয়াজে আরও উপস্থিত থাকবেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দর লুকাশেঙ্কো, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজাশকিয়ান, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পরিষদের স্পিকার উ উন-শিক এবং সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দর ভুচিচ।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে অংশ নেবেন আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল লি জুনহুয়া, যিনি অতীতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ইতালি, সান মারিনো ও মিয়ানমারে রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন।
৩ সেপ্টেম্বর তিয়ানআনমেন স্কোয়ারে আয়োজিত কুচকাওয়াজে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বিদেশি নেতাদের সঙ্গে নিয়ে হাজারো সেনার অভিবাদন গ্রহণ করবেন।
দীর্ঘদিন পর চীনের এই বৃহৎ সামরিক কুচকাওয়াজে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও হাইপারসনিক অস্ত্রসহ নানা অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি প্রদর্শিত হবে।



