উত্তর আন্দামান সাগরে থাইল্যান্ড উপকূলের কাছাকাছি একটি ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এটি ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করে শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। পরে এটি আরও শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী এর নাম হবে ‘অর্ণব’। নামটি প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ।
তবে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা নিয়ে আবহাওয়া মডেলগুলোর পূর্বাভাসে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া মডেল জিএফএস ঘূর্ণাবর্তটি শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা দেখালেও ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) আপাতত শুধু নিম্নচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।
আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২১ বা ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঘূর্ণাবর্তটি আরও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর এটি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্ভাব্য নিম্নচাপের প্রভাবে ১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে বজ্রপাত, দমকা হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর প্রভাবে ওড়িশা, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড় ও পশ্চিমবঙ্গের কিছু এলাকাতেও বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণাবর্ত এবং সৌরাষ্ট্র থেকে বঙ্গোপসাগর ও সিকিম থেকে উত্তর ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গে ইতোমধ্যে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় শনিবার পর্যন্ত বৃষ্টির জন্য ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি রাখা হয়েছে।
তবে এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না যে সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানবে কি না। বর্তমানে এর গতিপথ, শক্তি ও সম্ভাব্য স্থলভাগে আঘাতের স্থান নিয়ে আবহাওয়া সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পরবর্তী হালনাগাদ পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখা জরুরি।



