ভারতে চলতি ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে আকরিক লোহা উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ সময়ে দেশটিতে প্রায় ২৩ কোটি টন আকরিক লোহা উত্তোলন হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি।
ওড়িশা, ছত্তিশগড় এবং বিশেষ করে মহারাষ্ট্রে খনি কার্যক্রম বাড়ার কারণে উৎপাদনে এই প্রবৃদ্ধি এসেছে। খাতসংশ্লিষ্টদের ধারণা, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে বছর শেষে ভারতে আকরিক লোহা উৎপাদন ৩৫ কোটি টন ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিগমিন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বাণিজ্যিক খনিগুলো। বছরজুড়ে এসব খনিতে উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ। বিপরীতে ইস্পাত কারখানাগুলোর নিজস্ব খনি থেকে উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। ফলে নতুন করে যে পরিমাণ আকরিক লোহা উৎপাদনে যুক্ত হয়েছে, তার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এসেছে বাণিজ্যিক খনি থেকে।
উৎপাদনে সরকারি প্রতিষ্ঠান এনএমডিসি এখনো শীর্ষে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি একাই প্রায় পৌনে চার কোটি টন আকরিক লোহা উৎপাদন করেছে।
এদিকে মহারাষ্ট্রে নতুন পাইপলাইন ও খনি কার্যক্রম সম্প্রসারণের ফলে লয়েডস মেটালসের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন প্রায় ১৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। টাটা স্টিল ও সেইল-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনও বেড়েছে। তবে নিলামের মাধ্যমে তুলনামূলক বেশি দামে খনি অধিগ্রহণ করা জেএসডব্লিউ স্টিল ও জিন্দাল স্টিলের মতো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কিছুটা কমেছে।
অতিরিক্ত ব্যয় ও উচ্চ রয়্যালটির কারণে খনি কোম্পানিগুলো চাপের মধ্যে থাকলেও সামগ্রিকভাবে ভারতের আকরিক লোহা খাতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
তবে দেশটিতে রেকর্ড পরিমাণ আকরিক লোহা উৎপাদনের পরও উন্নতমানের আকরিকের ঘাটতি এবং বর্ষাকালীন বাড়তি ব্যয়ের কারণে আমদানি কমেনি। বরং এ সময় বিদেশ থেকে আকরিক লোহা আমদানির পরিমাণ আরও বেড়েছে।
সূত্র: জিএমকে সেন্টার



