tanaka

নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন, দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জি-৪-এর

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে জি-৪ জোট। ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপান নিয়ে গঠিত এই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা...
প্রচ্ছদআদালতচাঞ্চল্যকর জামিন জালিয়াতি

চাঞ্চল্যকর জামিন জালিয়াতি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে চট্টগ্রামে এক চাঞ্চল্যকর জামিন জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ‘কুকি-চিন’ সংশ্লিষ্ট ২০ হাজার পোশাক জব্দের মামলার এক আসামি তথ্য গোপন করে জামিন নিয়ে কারামুক্ত হয়েছেন—এমন তথ্য সামনে আসায় আদালত অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি সরাসরি প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নজরে আনেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল। বুধবার বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রধান বিচারপতি রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীকে তদন্তের নির্দেশ দেন এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে। রেজিস্ট্রার জেনারেলও নিশ্চিত করেছেন, তথ্য গোপন ও জামিন জালিয়াতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।

সূত্র জানায়, তথ্য গোপন করে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেওয়ার পর আদেশে বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পর সেটি পরিবর্তন করা হয়। জালিয়াতির মাধ্যমে নতুন করে মামলার নম্বর, থানার নাম ও অভিযোগের ধারা বসিয়ে সেই আদেশ কারাগারে দাখিল করা হয়। এর ভিত্তিতে ‘কুকি-চিন’ সংশ্লিষ্ট পোশাক জব্দ মামলার আসামি সাহেদুল ইসলাম মুক্তি পান। তিনি চট্টগ্রামের রিংভো অ্যাপারেলসের মালিক। যদিও ঘটনাটি প্রায় সাত মাস আগে ঘটেছে, তা প্রকাশ্যে আসে সম্প্রতি, যখন একই মামলার আরেক আসামি জামিন শুনানিতে এই উদাহরণ তুলে ধরেন।

যেভাবে ঘটেছে জালিয়াতি
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আটক সাহেদুল ইসলাম হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি আব্দুল্লাহ ইউসুফ সুমনের বেঞ্চে গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর আবেদনটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়। অনলাইন কার্যতালিকায় একই নামে একাধিক মামলার মধ্যে টেন্ডার নম্বরের অসঙ্গতি ছিল, যেখানে দুটি ভিন্ন মামলার ক্ষেত্রে একই নম্বর ব্যবহারের ঘটনা লক্ষ্য করা যায়। এখান থেকেই জালিয়াতির সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের তথ্যমতে, সাহেদুল ইসলাম নামে যাকে জামিন দেওয়া হয়েছিল, তার মামলার এজাহার ছিল ভিন্ন এবং সেখানে ‘কুকি-চিন’ সংশ্লিষ্ট পোশাক জব্দের কোনো অভিযোগ ছিল না। সেই ভিত্তিতেই আদালত জামিন দেন। কিন্তু বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পর আদেশের প্রথম পৃষ্ঠায় মামলার বিবরণ পরিবর্তন করে অন্য মামলার তথ্য সংযোজন করা হয়। এভাবেই জাল আদেশ তৈরি করে তা কারাগারে দাখিল করে আসামিকে মুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে একই মামলার আরেক আসামি জামিন চাইলে তার আইনজীবী সাহেদুল ইসলামের জামিনের উদাহরণ দেন। বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় জালিয়াতির বিষয়টি শনাক্ত করে এবং তা প্রধান বিচারপতির নজরে আনে।

মামলার প্রেক্ষাপট
২০২৫ সালের ১৭ মে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় রিংভো অ্যাপারেলসের গুদাম থেকে ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট’ (কেএনএফ)-এর সদস্যদের জন্য তৈরি ২০ হাজার ৩০০টি পোশাক জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। মামলায় কারখানার মালিক সাহেদুল ইসলাম ছাড়াও গোলাম আজম ও নিয়াজ হায়দারকে আসামি করা হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রায় দুই কোটি টাকার বিনিময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যদের জন্য এসব পোশাক তৈরির অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। ২০২২ সালের দিকে বান্দরবানের রুমা উপজেলায় ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট’-এর অস্তিত্ব সামনে আসে, যা স্থানীয়ভাবে ‘বম পার্টি’ নামেও পরিচিত।