ভাগ্যান্বেষণের আশায় বিদেশ পাড়ি জমিয়েছিলেন তারা—স্বপ্ন ছিল পরিশ্রম ও সংগ্রামের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার। কিন্তু সেই স্বপ্ন শেষ হয়েছে পরদেশের কঠিন বাস্তবতায়। মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে আরও তিনজন প্রবাসীর প্রাণ হারানোয় শোকের আবহ নেমে এসেছে বাংলাদেশি প্রবাসী সমাজে।
মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর (২০২৪) দেশটিতে ৩৯ জন প্রবাসী বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের মধ্যে ২৮ জন ছিলেন বৈধ কর্মী এবং ১১ জন অনিবন্ধিত (আনডকুমেন্টেড) শ্রমজীবী। চলতি বছর (২০২৫) ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২৬ জন বাংলাদেশির, যাদের বেশিরভাগই হৃদরোগ ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের (স্ট্রোক) মতো প্রাণঘাতী জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
হাইকমিশনের তত্ত্বাবধানে এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে মৃতদের মরদেহ যথাযথ প্রক্রিয়ায় দেশে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে রাজধানী মালের হিমাগারে আরও কয়েকজন প্রবাসীর মরদেহ সংরক্ষিত রয়েছে, যেগুলোর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চলছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম হিমাগার পরিদর্শন করেন এবং মৃত্যুজনিত ঘটনাগুলোর প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
এই প্রসঙ্গে মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের শ্রম কাউন্সিলর মো. সোহেল পারভেজ বলেন, “প্রবাসী মৃত্যুর অন্যতম কারণ অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, শারীরিক ক্লান্তি, মানসিক চাপ, স্বল্প আয় ও পরিবার থেকে দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতা। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অকালমৃত্যুর হার অনেকটা কমানো সম্ভব।”



