tanaka

পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধ ২০৪ কোটি ডলার

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। চলতি...
প্রচ্ছদটপ নিউজগ্যাস সংকট কাটছে না, সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছে না; ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

গ্যাস সংকট কাটছে না, সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছে না; ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

দেশে গ্যাস সংকট অব্যাহত রয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় আবাসিক, শিল্প, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতের গ্রাহকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংকট আরও কয়েকদিন চলতে পারে।

কক্সবাজারের মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে এক সপ্তাহ ধরে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এর প্রভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার সময়মতো রান্না করতে পারছে না। বাধ্য হয়ে কেউ বৈদ্যুতিক চুলা, কেউ এলপিজি সিলিন্ডার, আবার কেউ বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, দিনের অধিকাংশ সময় চুলায় গ্যাস থাকে না। অনেক সময় আগুন জ্বললেও চাপ এত কম থাকে যে রান্না করা সম্ভব হয় না। এতে পরিবারের দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটছে।

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট কমে গেছে। এতে বিদ্যুৎ ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একইভাবে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক কারখানায় উৎপাদন কমিয়ে দিতে হচ্ছে, আবার কোথাও আংশিকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

এদিকে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও দেখা দিয়েছে দীর্ঘ অপেক্ষার ভোগান্তি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক চালক গ্যাস নিতে পারছেন না। এতে অনেকেই গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হতে না পেরে আয়-রোজগার হারাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এলএনজি রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালটি রোববারও চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে রাজধানীর কলাবাগান, মোহাম্মদপুর, কাফরুল, বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কম রয়েছে। কোথাও চুলায় অল্প আগুন জ্বলছে, আবার কোথাও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

দেশে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি এবং অন্যটি সামিট গ্রুপ। গত মঙ্গলবার এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকেই সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, এক্সিলারেটের টার্মিনালে থাকা দুটি বয়লারের একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অপর বয়লারটি চালু করা গেলে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে। যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল বৃহস্পতিবার থেকে টার্মিনালটি সচল করার কাজ করছে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, কারিগরি দল কাজ করছে। তবে এখনো টার্মিনাল চালুর উপযোগী অবস্থায় আনা সম্ভব হয়নি। যত দ্রুত সম্ভব চালুর চেষ্টা চলছে, তবে নির্দিষ্ট সময় বলা যাচ্ছে না।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। গত বছর থেকে গড়ে সরবরাহ করা হচ্ছিল প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট। এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার পর সরবরাহ নেমে এসেছে ২১৫ কোটি ঘনফুটের নিচে।

গ্রাহকদের দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের ত্রুটি মেরামতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। অন্যদিকে তিতাস গ্যাস জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তাদের আওতাধীন এলাকায় সব শ্রেণির গ্রাহক স্বল্পচাপের সমস্যায় থাকবেন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এলএনজির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা গ্যাস খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, ভাসমান টার্মিনাল নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা স্থায়ী সমাধান নয়। এটি ব্যয়বহুল এবং সব সময় নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে না।

তিতাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এলএনজি টার্মিনাল চালু হলেও সংকট পুরোপুরি কাটতে সময় লাগবে। বর্তমানে তারা প্রায় ১২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাচ্ছেন, যেখানে চাহিদা প্রায় ১৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) চালু হওয়ার পরও সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি থেকেই যেতে পারে।