tanaka

জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে তানজিম ইবনে ওয়াহাবের নিয়োগ নবায়ন

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে তানজিম ইবনে ওয়াহাবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ আরও এক বছরের জন্য নবায়ন করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকগাজায় শত শত ফিলিস্তিনির কবর ধ্বংস করে ইসরাইলি সেনাদের উল্লাস

গাজায় শত শত ফিলিস্তিনির কবর ধ্বংস করে ইসরাইলি সেনাদের উল্লাস

গাজায় একের পর এক কবরস্থান ধ্বংস ও ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহের অবমাননাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠলেও ইসরাইলি বাহিনীর এমন কর্মকাণ্ড থামছে না। আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ উপেক্ষা করেই তারা এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি উত্তর গাজার একটি ফিলিস্তিনি কবরস্থান থেকে রণ গিভিলি নামের এক ইসরাইলি জিম্মির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে ‘অসাধারণ সাফল্য’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরাইলি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপে পরিণত ওই কবরস্থানের ওপর দাঁড়িয়ে ইসরাইলি সেনারা হিব্রু গান গেয়ে উল্লাস করছে।

পশ্চিমা কয়েকটি সংবাদমাধ্যম এই অভিযানকে ইসরাইলের জন্য ‘জাতীয় নিরাময়ের মুহূর্ত’ হিসেবে তুলে ধরলেও, গাজার মাটিতে এর প্রভাব ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই তথাকথিত উদ্ধার অভিযান ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর জন্য বয়ে এনেছে ভয়াবহ মানসিক যন্ত্রণা ও আতঙ্ক।

অভিযান চলাকালে কবরস্থানের আশপাশে অন্তত চারজন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরাইলি বাহিনী এবং বুলডোজার দিয়ে শত শত কবর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে অসংখ্য পরিবারকে তাদের স্বজনদের ছিন্নভিন্ন দেহাবশেষ নতুন করে খুঁজে বের করে পুনরায় দাফন করতে হচ্ছে—যা তাদের শোককে আরও গভীর করে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কবরস্থান সুরক্ষা ও মৃতদেহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, গাজায় ইসরাইলের এই কর্মকাণ্ড জেনেভা কনভেনশনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং একটি সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ। ফিলিস্তিনিদের দৃষ্টিতে এটি কেবল সামরিক অভিযান নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত ‘সমষ্টিগত শাস্তি’, যার লক্ষ্য মৃত্যুর পরেও তাদের মর্যাদা কেড়ে নেওয়া।

ইসরাইল প্রায়ই দাবি করে থাকে যে হামাস সামরিক উদ্দেশ্যে কবরস্থান ব্যবহার করে। তবে সিএনএন-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও স্যাটেলাইট চিত্র ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গাজায় অন্তত ১৬টি ফিলিস্তিনি কবরস্থান ধ্বংসের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রেই কবরস্থান সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সামরিক অবস্থান গড়ে তোলা হয়েছে।

এই ধ্বংসযজ্ঞ শুধু গাজায় সীমাবদ্ধ নয়। অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনিদের মুসলিম ও খ্রিস্টান কবরস্থানে নিয়মিত হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি সামরিক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি একটি পদ্ধতিগত বিদ্বেষ ও দমননীতির প্রতিফলন।

মৃতদেহের প্রতি এই নিষ্ঠুরতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে গত বছর গাজা থেকে ফেরত পাঠানো শত শত ফিলিস্তিনির মরদেহের ঘটনায়। এসব মরদেহের অনেকগুলোতে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে, আর কিছু দেহ এতটাই বিকৃত ছিল যে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে বহু ফিলিস্তিনির মরদেহ এখনো ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছে, যেগুলোকে তারা রাজনৈতিক ‘দরকষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে। ২০১৯ সালে ইসরাইলি সুপ্রিম কোর্ট রাষ্ট্রীয়ভাবে এসব মরদেহ আটকে রাখার বৈধতাও দেয়।

ফিলিস্তিনি লেখক ও গবেষক আমাল আবু সাইফ বলেন, মৃত ফিলিস্তিনিদের প্রতি এই অমানবিক আচরণ বিশ্ব গণমাধ্যমে খুব সামান্য গুরুত্ব পায়। যেখানে ইসরাইলি বন্দিদের দাফনের প্রতিটি মুহূর্ত আবেগঘনভাবে বিশ্বজুড়ে প্রচার করা হয়, সেখানে ফিলিস্তিনিদের বিধ্বস্ত কবরস্থান ও ছড়িয়ে থাকা অস্থি নিয়ে আন্তর্জাতিক নীরবতা গভীরভাবে বেদনাদায়ক।

আন্তর্জাতিক আইনে সুরক্ষিত এসব পবিত্র স্থানের অবমাননা ফিলিস্তিনিদের স্মৃতি মুছে ফেলা এবং শোকাহত পরিবারগুলোর ওপর চূড়ান্ত অপমান চাপিয়ে দেওয়ার একটি কৌশল হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। সূত্র: আল জাজিরা

prothomnews24.com/moha