tanaka

নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন, দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জি-৪-এর

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে জি-৪ জোট। ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপান নিয়ে গঠিত এই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকগাজায় একদিনে নিহত ৮৬, মোট প্রাণহানি ছাড়ালো ৬২ হাজার ৭০০

গাজায় একদিনে নিহত ৮৬, মোট প্রাণহানি ছাড়ালো ৬২ হাজার ৭০০

রবিবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর গাজা উপত্যকায় গোলাবর্ষণে কমপক্ষে ৮৬ জন নিহত ও ৪৯২ জন আহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

নিহতদের মধ্যে ৫৮ জন মারা গেছেন সরাসরি ইসরায়েলি বোমার আঘাতে, আর বাকি ২৮ জন নিহত হয়েছেন খাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “সোমবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাজার হাসপাতালগুলোতে ৮৬ জনের মরদেহ ও ৪৯২ জন আহত অবস্থায় পৌঁছেছে। তবে আহত ও নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন এবং উদ্ধারকাজে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও কর্মী সংকট রয়েছে।”

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২,৭৪৪ জনে। এছাড়া আহত হয়েছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৫৯ জন ফিলিস্তিনি।

গাজায় আটকে থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির জন্য গত ১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় দুই মাসের যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। তবে ১৮ মার্চ সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবারো অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। এরপর পাঁচ মাসে গাজায় নিহত হয়েছেন ১০,৯০০ জন এবং আহত হয়েছেন ৪৬,২১৮ জন।

মে মাসের শেষ থেকে খাদ্য ও ত্রাণ সংগ্রহ করতে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপরও ইসরায়েলি বাহিনী নিয়মিত গুলি চালাচ্ছে। ২৭ মে প্রথমবারের মতো এ হামলা হয়, এরপর থেকে নিয়মিত এই ঘটনা ঘটছে। ওই তারিখ থেকে এখন পর্যন্ত ২,১২৩ জন নিহত ও ১৫,৬১৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলের ভূখণ্ডে এক আকস্মিক হামলা চালিয়ে ১,২০০ জনকে হত্যা ও ২৫১ জনকে জিম্মি নেয়। এর পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী হামাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শুরু করে।

১৫ মাসের বেশি টানা অভিযানের পর গত ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রসহ মধ্যস্থতাকারী দেশের চাপের মুখে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে ইসরায়েল।

হামাসের নেওয়া ২৫১ জন জিম্মির মধ্যে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ জন এখনো জীবিত রয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। আইডিএফ এই জিম্মিদের উদ্ধার অভিযান ঘোষণা করেছে।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। ইতোমধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে।

তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামাসকে সম্পূর্ণ দুর্বল করে জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া এই অভিযানের মূল লক্ষ্য, যা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।


সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি