গাজায় দুর্ভিক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ। মধ্যপ্রাচ্যে এটাই প্রথম এমন ঘোষণা। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, সেখানে অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ ভয়াবহ ক্ষুধা ও মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে।
জাতিসংঘের জরুরি ত্রাণ সমন্বয়ক টম ফ্লেচার জানান, আইপিসি প্যানেলের মূল্যায়নে গাজা শহর ও আশপাশের এলাকায় দুর্ভিক্ষ নিশ্চিত হয়েছে। তিনি ইসরাইলকে দোষারোপ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে ত্রাণ সহায়তা আটকে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই প্রতিবেদনকে ‘মিথ্যা’ দাবি করে নাকচ করেছেন। ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বলেছে, গাজায় দুর্ভিক্ষ নেই।
আইপিসি’র সংজ্ঞায়, কোনো অঞ্চলে ২০ শতাংশ পরিবার চরম খাদ্য সংকটে, পাঁচ বছরের নিচে ৩০ শতাংশ শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে এবং প্রতিদিন প্রতি ১০ হাজারে অন্তত দুজন খাদ্যাভাব বা রোগে মারা গেলে সেটি দুর্ভিক্ষ ধরা হয়।
রোমভিত্তিক আইপিসি জানায়, ১৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রমাণের ভিত্তিতে গাজায় দুর্ভিক্ষ (আইপিসি ফেজ-৫) নিশ্চিত হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, অঞ্চলে প্রায় ১০ লাখ মানুষের মধ্যে পাঁচ লাখেরও বেশি এখনই অনাহার ও মৃত্যু-ঝুঁকিতে রয়েছে। সেপ্টেম্বরে তা ৬ লাখ ৪০ হাজারে পৌঁছাতে পারে।
জাতিসংঘ, রেড ক্রস ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই সংকট ‘সম্পূর্ণ মানবসৃষ্ট’। মার্চে ইসরাইল ত্রাণ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, পরে সীমিত অনুমতি দিলেও তা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। এর ফলে খাবার, ওষুধ ও জ্বালানির মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জরুরি যুদ্ধবিরতি ও পূর্ণ মানবিক সহায়তা প্রবেশের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই পরিস্থিতিকে বিনা বিচারে চলতে দেওয়া যাবে না।”
ইউনিসেফ জানিয়েছে, শুধু জুলাই মাসেই ১২ হাজারের বেশি শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে আক্রান্ত হয়েছে—যা জানুয়ারির তুলনায় ছয় গুণ বেশি। স্থানীয় খাদ্যব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে; ৯৮ শতাংশ আবাদি জমি অকার্যকর, গবাদিপশুর বড় অংশ ধ্বংস এবং মাছ ধরা নিষিদ্ধ।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, “যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে অনাহার ব্যবহার করা যুদ্ধাপরাধ।”



